৮ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬

রাজশাহীতে ছড়া-সাহিত্য উৎসবে সংবর্ধিত হলেন ২২ গুণিজন

Admin Published: January 16, 2026, 6:23 pm
রাজশাহীতে ছড়া-সাহিত্য উৎসবে সংবর্ধিত হলেন ২২ গুণিজন

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে ছড়া সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার এক প্রাণবন্ত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উৎসবে সাহিত্য, গবেষণা, সংগীত, নাট্য, সমাজসেবা, চিকিৎসা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে বিশেষ অবদানের জন্য ২২ জন গুণিজনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী নগর ভবনের এনেক্স হলরুমে রাজশাহী ছড়া সংসদের উদ্যোগে এ ছড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ। এসময় ‘খড়কুটো উৎসব সংখ্যা’ ও ‘রঙ মাখা শব্দের ঢেউ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। গ্রন্থ দুটির পাঠ উন্মোচন করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী। তিনি বলেন, এসব প্রকাশনা ছড়া সাহিত্য ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, রাজশাহী ছড়া সংসদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আবাবিল। তিনি বলেন, ছড়া কেবল শিশুদের আনন্দের উপকরণ নয়; এটি ভাষা ও সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ছড়ার মধ্য দিয়ে শিশুদের কল্পনাশক্তি, মানবিক মূল্যবোধ ও ভাষাচেতনা গড়ে ওঠে। এ ধরনের আয়োজন সাহিত্যচর্চাকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী ছড়া সংসদের সভাপতি নূরউল ইসলাম। তিনি বলেন, ছড়া উৎসবের মাধ্যমে নতুন লেখক ও পাঠক তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রেখে চলেছেন, তাঁদের সম্মান জানানো হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কবি ও গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ, নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (অব.) ড. আব্দুর রহমান, রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কথাসাহিত্যিক জুয়েল কিবরিয়া, শতফুল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নাজিম উদ্দীন মোল্লা এবং শাপলা গ্রাম-উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. মোহসিন আলী। তাঁরা ছড়া সাহিত্য ও সংস্কৃতির সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে হাসান আবাবিল সম্পাদিত ‘খড়কুটো উৎসব সংখ্যা’ নিয়ে আলোচনা করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. শিরীন আখতার নীনা। তিনি বলেন, এ ধরনের সংকলন নতুন প্রজন্মের লেখকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে। ‘রঙ মাখা শব্দের ঢেউ’ নিয়ে আলোচনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহিপুর কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. শহীদ সারওয়ার আলো।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল গুণিজন সংবর্ধনা। কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য সংবর্ধিত হন কবি শামীমা নাইস, কবি মুসতাহসিনা তামান্না মুক্তা, কবি সেলিনা পারভীন রুমা ও ড. শহীদ সারওয়ার আলো। ছড়া সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পান ছড়াকার আশরাফুল হক পলাশ। নজরুল গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য সংবর্ধিত হন সানারুল ইসলাম বাহার।

সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পান তুষার মাহমুদ ও মো. আব্দুস সালাম খান। সমাজকর্মে অবদানের জন্য সংবর্ধিত হন, মোহসিন আলী ও হামিমা উম্মে মোরশেদা। পাঠাগার আন্দোলনে বইবন্ধু আমিনুল হক রিন্টু, পরিবেশ ও নারী উন্নয়ন গবেষণায় পারভেজ বাবুল, সাহিত্য ও সম্পাদনায় নাসরীন রহমান, সুলতানা রিজিয়া ও রেবেকা আসাদ, চিকিৎসা সেবায় ফজলুল কবির পাভেল, নারী উদ্যোক্তায় হুমায়রা রহমান মাসুমা, নাট্যশিল্পে হৃদয় রনি, উপস্থাপনায় রজব আলী এবং সাহিত্য সংগঠনে নীরু নীলিমায় ও আলমগীর কবির হৃদয় সংবর্ধনা লাভ করেন। আয়োজকেরা জানান, রাজশাহীতে ছড়া সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উৎসব ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অব্যাহত রাখা হবে।