৮ ভাদ্র, ১৪৩৩
২৩ আগস্ট, ২০২৬

রাজশাহীতে প্রথম খেরওয়াল বিদ্রোহের নেতা ‘তিলকা মাঝি দিবস’ পালন

Admin Published: January 21, 2026, 6:11 pm
রাজশাহীতে প্রথম খেরওয়াল  বিদ্রোহের নেতা ‘তিলকা  মাঝি দিবস’ পালন

স্টাফ রিপোর্টার : দেশে প্রথম বারেরমত রাজশাহীতে খেরওয়াল বিদ্রোহের নেতা ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী ‘তিলকা মাঝি দিবস’ পালন করা হয়েছে। বুধবার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাঁওতাল জনজাতি অধ্যুষিত বর্ষাপাড়ায় রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের সদস্যের অংশগ্রহণে দিবসটি পালন করা হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা  সিসিবিভিও দিবসটি পালনের আয়োজন করে।

দিনের শুরুতে তিলকা মাঝি ও খেরওয়াল বিদ্রোহের শহীদসহ নৃতাত্ত্বিক অধিকার আদায়ের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। বর্ষাপাড়া রক্ষাগোলা গ্রাম সমাজ সংগঠনের মাঞ্জি হাড়াম রাজেন টুডু’র সভাপতিত্বে ও সিসিবিভিও কর্মসূচি কর্মকর্তা যোশেফ রামদাস হাঁসদার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিবিভিও’র সভাপতি প্রফেসর মোহা. আবদুস সালাম, নির্বাহী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল স্বপন, সাংবাদিক আবুল কালাম মুহাম্মদ আজাদ ও সিসিবিভিও সমন্বয়কারী আরিফ ইথার। সভায় সিসিবিভিও’র কর্মসূচি কর্মকর্তা সৌমিক ডুমরী তিলকা মাঝি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন।

এতে বলা হয়, তিলকা মাঝি ওরফে তিলকা মুরমু ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের ভাগলপুরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে সংঘটিত খেরওয়াল বিদ্রোহের নেতা। ১৭৮১ থেকে ৮৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি জমি লুট ও বলপূর্বক খাজনা আদায়ের নির্মম পন্থা অবলম্বন করলে তার বিরুদ্ধে সাঁওতালদের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভের সূচনা হয় তাকে গণবিদ্রোহে রূপ দেন তিলকা। ওই সংগ্রামে আহত অবস্থায় তিলকা মাঝি ধরা পড়েন। এরপর বিদ্রোহের শাস্তিস্বরূপ ১৭৮৫ সালের ১৩ জানুয়ারি তাকে ছুটন্ত ঘোড়ার পেছনে বেঁধে নৃশংস পদ্ধতিতেও তার মৃত্যু না হলে পরে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হয়। তার এ আত্মত্যাগের স্মরণে দিবসটি পালন করা হয়।

সভায় অন্যদের মধ্যে রক্ষাগোলা সমন্বয় কমিটির নেতা রঘুনাথ পাহাড়িয়া ও বাপ্পী মার্ডী বক্তব্য দেন। আলোচকরা তাদের বক্তব্যে ভারতবর্ষের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে তিলকা মাঝিকে প্রথম শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।