স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর পর্যটন মোটেলে নতুন কমিটির পরিচিতি সভা ও সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির দুই পক্ষের উত্তেজনার মধ্যে সংবাদকর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছেন সংগঠনটির দুই নেতা। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সম্প্রচার বন্ধ না করলে তালাবদ্ধ করে রাখার হুমকি দেন। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে নতুন কমিটির পরিচিতি সভা ও সংবাদ সম্মেলন পণ্ড হয়ে যায়। হুমকিদাতা দুইজনের মধ্যে একজনের নাম সোয়েব আহমেদ। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরের কয়েকজন নেতার সঙ্গে চলাফেরা করেন। তবে কোন পদে নেই তিনি।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সোয়েব আহমেদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। পাথর মেরে ট্রেন থামানোর ঘটনায় সমালচনার মুখে পড়েন তিনি। এছাড়াও নগরের আসাম কলোনিতে দুই নারীকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনাতেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। সেই ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পর্যটন মোটেলে রাজশাহী জেলার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা ও সংবাদ সম্মেলন চলছিল। এ সময় এনসিপির মহানগর কমিটির একাংশের অন্তত ২৫/৩০ জন নেতাকর্মী মোটেলে উপস্থিত হয়। তারা নতুন কমিটির জেলা আহ্বায়ক সাইফুল আলমকে আওয়ামী লীগপন্থী আখ্যা দিয়ে কর্মসূচি ভণ্ডুল করার চেষ্টা চালায়।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই সোয়েব আহমেদসহ দুইজন সভাকক্ষে ঢুকে সাংবাদিকদের বাইরে চলে যেতে বলেন। সাংবাদিকরা বের না হলে দরজায় তালা দিয়ে আটকে রাখার হুমকি দেন তারা। বলেন, তালাবদ্ধ করে টয়লেট বাথরুম ব্যবহারও বন্ধ করে দিব। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মরত সংবাদকর্মীরা। পরে সাংবাদিকরা একাত্ম হয়ে ওই দুই হুমকিদাতাকে ধাওয়া দিয়ে পর্যটন মোটেলের বাইরে বের করে দেন।
এ ঘটনা ঘিরে দীর্ঘ সময় এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের উত্তপ্ত বাকবিনিময় চলতে থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে। সন্ধ্যায় সংবাদকর্মীরা পর্যটন মোটেল এলাকা ত্যাগ করলেও এনসিপির নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান নেয়।
সাংবাদিকরা জানান ‘‘আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত এনসিপির কোনো কর্মকাণ্ডের সংবাদ কভার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’
রাজপাড়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন,‘‘ খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে শোয়েব নামে একজন ঘটনার জন্য দুঃখ্য প্রকাশ করেছেন। এর পর সেখান থেকে সাংবাদিকরা চলে যায়।’’
এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী বলেন, “ছেলেটা আমাদের সঙ্গে চলে, কিন্তু দলের কোনো পদে নেই। সে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে ছিল। বয়স কম, তাই এমন কথা বলে ফেলেছে। আসলে জেলার আহ্বায়ক সাইফুলকে নিয়ে তাদের ক্ষোভ আছে।’
এনসিপির জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার কোনো আওয়ামী সম্পৃক্ততা নেই। আগে আমি জিয়া পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। পরে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হই। এরপর এনসিপিতে এসেছি। আমি আসলে সংস্কারের পক্ষে থাকতে চেষ্টা করেছি সব সময়। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে। গত শনিবার এনসিপির ১১৪ সদস্য বিশিষ্ট রাজশাহী জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম স্বাক্ষরিত তালিকায় সাইফুল ইসলামকে জেলা কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
ঘোষিত কমিটির মেয়াদ থাকবে আগামী ছয় মাস। নতুন কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে অ্যাডভোকেট একেএম মিজানুর রহমানকে। জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ৯ জন। এরা হলেন- মামুনুর রশিদ, অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ জিন্নাহ, অ্যাডভোকেট অশোক কুমার দাস, প্রভাষক মতিউর রহমান, অধ্যাপক ওয়ালিউর রহমান, আলী মোর্তুজা, ইলিয়াশ হাসান সোহেল, আব্দুল মালেক ও সায়েম মবিন।
এছাড়ও রনিউর রহমানকে করা হয়েছে জেলা কমিটির সদস্যসচিব। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হয়েছেন মীর ফারুক। আর ১৪ জনকে যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে। এরা হলেন- আতাউর রহমান, আইউব আল জেরি, শাহ মখদুম মিলন, ইমরান হাসান, তোহিদুল ইসলাম, মোবারক আলী, রাকিবুল ইসলাম, তসবির রহমান মৃধা, আপন দুলাল, মনিরুল ইসলাম, ফিরোজ আলম, আব্দুল হালিম ও আব্দুল আলিম। সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে নাহিদুল ইসলাম সাজু, আতিকুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, ইফ্ফাত উদ্দিন ও রাশেদুল ইসলামকে।