৭ ভাদ্র, ১৪৩৩
২২ আগস্ট, ২০২৬

রাসিকের প্রশাসক হতে বিএনপি নেতাদের তৎপরতা, আলোচনায় বুলবুল

Admin Published: March 4, 2026, 1:41 pm
রাসিকের প্রশাসক হতে বিএনপি নেতাদের  তৎপরতা, আলোচনায় বুলবুল

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক হতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন মহানগর বিএনপির অন্তত ৫ নেতা। তবে ভেঙেপড়া নাগরিক সেবা পুনরুদ্ধারে সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে প্রশাসক হিসেবে দেখতে চান অনেকে। তাকে নিয়ে বেশী আলোচনা হচ্ছে নগরে। সাবেক কাউন্সিলরা ছাড়াও সাধারণ নগরবাসীও চলমান প্রেক্ষাপটে বুলবুলকে প্রশাসক হিসেবে চাইছেন। 

যদিও রাসিকের প্রশাসক হতে আলোচনায় রয়েছেন বুলবুল ছাড়াও মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, ওয়ালিউল হক রানা ও আবুল কালাম আজাদ সুইট। 

সম্প্রতি দেশের ৬টি সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের পর থেকেই রাজশাহীর নেতারাও তৎপরতা শুরু করেছেন। তবে নগরবাসীর অনেকে যোগ্য নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার দাবি তুলেছেন। 

নগরবাসী বলছেন, ফ্যাসিস্ট আমলের আগে দীর্ঘ ১৭ বছর রাসিকের জনপ্রিয় মেয়র ছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি এখন ভূমিমন্ত্রী। এরপরেই রাসিকে রাজশাহীর বিএনপি নেতাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা রয়েছে সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের। মেয়র থাকাকালীন বুলবুল প্রায় ২৭ মাস জেল খেটেছেন। ফেরারি জীবন কাটিয়েছেন হয়রানীমুলক মামলার শিকার হয়ে। তারপরেও তিনি কর্পোরেশন সামলিয়েছেন। 

পরীক্ষিত হিসেবে রাজশাহী মহানগর বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী এখন সাবেক মেয়র বুলবুলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। প্রশাসক হিসেবে নগরবাসীর পছন্দ হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে ভাবছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বুলবুলের পক্ষেই আওয়াজ উঠছে। 

রাসিকের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্বাস আলী সরদার বলেন, বুলবুল জনপ্রিয় ও নগরবাসীর পরিক্ষিত নেতা। ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. টুটুল বলেন, বিগত সময়ে রাজনৈতিক ভাবে হয়রানী ও মেয়র পদ কেড়ে নেয়া হয় নির্বাচিত মেয়র বুলবুলের কাছ থেকে। তিনি বলেন, রাসিকের প্রশাসক হিসেবে এই মুহুর্তে বুলবুলের বিকল্প নেই। 

যুবদল নেতা ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোশিয়েশন অব বাংলাদেশের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আরিফুজ্জামান সোহেল জানান, এই মুহুর্তে নগরবাসীর নাগরিক সেবা নিশ্চিতে প্রশাসক হিসেবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিকল্প নেই। 

রাজশাহী মহানগর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের অধিকাংশ নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে বুলবুলকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের দাবি তুলেছেন। তারা বলছেন, অতিত অভিজ্ঞতা ও নগর উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বুলবুলকে দায়িত্ব দেওয়া হলে রাজশাহীর চলমান ও অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গতি পাবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে বিএনপির কেন্দ্রিয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল তার দায়িত্ব পালনকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ছিল দুর্নীতিমুক্ত। তবে বিগত আওয়ামী লীগর ১৭ বছরে ৪২টি রাজনৈতিক মামলা মাথায় নিয়ে রাজনীতি করেছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে ৮ দফা তিনি জেলে গেছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রাম ও দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি ছিলেন অবিচল। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন বুলবুল। 

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বিপুল ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার স্বল্প মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়ক প্রসস্থকরণ, সংস্কার ও সম্প্রসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারকরা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেন। তিনি নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও করছেন।  

তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ও আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। সবাই দলের হাইকমান্ডের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাজশাহীর রাজনীতিতে সুপরিচিত মুখ। 

সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে দলের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন বুলবুল। মহানগরের একটি অংশের নেতা-কর্মীর মতে, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে বুলবুল কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য। তবে রাজশাহী নগরে নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মহানগর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নামও আলোচনায় এসেছে।#