২ কার্তিক, ১৪৩৩
১৭ অক্টোবর, ২০২৬

সাইবার আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

Admin Published: September 28, 2026, 6:29 pm
সাইবার আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

ডিএনএন ডেস্ক: সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় সাংবাদিকদের হয়রানি ও ভিকটিমাইজেশন ঠেকাতে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি তার কাছেও যৌক্তিক মনে হয়েছে।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার সিকিউরিটি আইন সংশোধনের জন্য প্রস্তুত করা খসড়াটি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, সাইবার স্পেসে কাজ করা ব্যক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, আইনটি যাতে কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক না হয়, সে লক্ষ্যেই খসড়াটি জনমত যাচাইয়ের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীসহ নানা পক্ষ থেকে মতামত পাওয়া গেছে। এসব মতামত ইতোমধ্যে সংকলন করা হয়েছে।


মন্ত্রী বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সংবাদপত্রের সংগঠন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এটি ছিল দ্বিতীয় বৈঠক।


এর আগে ১০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের পরবর্তী সভায় লিখিতভাবে, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অথবা সরাসরি আলোচনায় নিজেদের মতামত দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। অনেকেই মতামত লিখিতভাবে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহফুজ আনাম আরও কিছু সময় নিয়ে গণমাধ্যম ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিস্তারিত মতামত নেওয়ার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি, আইনটির অপপ্রয়োগে গণমাধ্যমকর্মীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য সুরক্ষামূলক বিধান বা ‘সেভিং ক্লজ’ রাখার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। মন্ত্রী জানান, এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।


সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোচনার মাধ্যমে আইনটিকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব। গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে আইনটি করা হয়নি এবং কোনো সাংবাদিক যেন এর অপব্যবহারের শিকার না হন, সেটিই সরকারের উদ্দেশ্য।


তিনি জানান, সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষার প্রস্তাব এসেছে। এর অংশ হিসেবে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। সরকার প্রস্তাবটিকে উপযুক্ত মনে করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আরও সুপারিশ পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


এ ছাড়া আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার প্রস্তাবও এসেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এর ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনির্দিষ্ট সময় ধরে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে থাকতে হবে না।


আইন সংশোধনের বিষয়ে আরও মতামত সংগ্রহ ও সমন্বয়ের জন্য প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও)-কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রম সমন্বয় করবে। এতে সম্পাদক পরিষদ, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংগঠন এবং সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। আইটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলও গঠন করা হবে।


মন্ত্রী জানান, আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সুপারিশ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এরপর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে সংশোধিত খসড়াটি আবারও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে জনগণ নতুন করে মতামত দেওয়ার সুযোগ পান।


সংসদে বিলটি উঠলেও তাড়াহুড়ো করে তা পাস করা হবে না বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরেও সেমিনার, সিম্পোজিয়ামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মতামত নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি আইন প্রণয়ন করতে চায় সরকার, যার মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে।