স্টাফ রিপোর্টার : শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘মব ভায়োলেন্স’ বলতে কিছু নেই। বুধবার বিকেলে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মিলনায়তনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে কোন সহিংসতা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রস্ততি ভালো। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্র নিয়মিত উদ্ধার হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কোন প্রার্থী অশোভন আচরণ করলে, তা সমাজে প্রকাশ পেলে এমনিতেই কোনঠাসা হয়ে যাবে। বেশি কিছু করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা নিয়ে পুলিশের ভেতর ‘মব’ ভীতি কাজ করছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ কমিশনারকে পাশে ডেকে এনে সাংবাদিকদের দেখিয়ে বলেছেন, ‘এই যে তাকাইয়া দেখো, ভীত মনে হচ্ছে?’ তিনি বলেন, পুলিশের ভেতরে কোনো ভীতি কাজ করতেছে না।’
নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রস্তুতি খুবই ভালো। সিসিটিভি প্রায় কেন্দ্রে লেগে গেছে। দু’একটা কেন্দ্রে যেখানে বাউন্ডারি ওয়াল নাই, সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে ব্যবস্থা করে দিবে। তাদের প্রস্তুতি খুবই ভালো। নির্বাচন খুব শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে।’
অবৈধ অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমি বার বারই বলছি। এখানে অবৈধ অস্ত্র কিন্তু প্রতিনিয়তই উদ্ধার হচ্ছে। নির্বাচনটা খুবই শান্তিপূর্ণভাবে হবে, উৎসবমুখরভাবেই হবে। পিসফুলই হবে।’
তিনি জানান, নির্বাচনে সারাদেশে সেনাবাহিনীর এক লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার, কোস্ট গার্ডের চার হাজার, পুলিশের দেড় লাখ, র্যাবের নয় হাজার এবং আনসারের পাঁচ লক্ষাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনে সহিংসতার কোনো সম্ভাবনাই নাই। ইলেকশন খুব পিসফুল হয়ে যাবে।’
এর আগে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। সভায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, নগর পুলিশের কমিশনার ড. জিল্লুর রহমানসহ পুলিশের ৮ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা; উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) অংশ নেন।