৭ ভাদ্র, ১৪৩৩
২২ আগস্ট, ২০২৬

‘শিশুকে বড় করা সহজ, কিন্তু মাদকাসক্তকে নিয়ে কাজ করা কঠিন’

Admin Published: March 4, 2026, 5:45 pm
‘শিশুকে বড় করা সহজ, কিন্তু মাদকাসক্তকে নিয়ে কাজ করা কঠিন’

স্টাফ রিপোর্টার : একটি শিশুকে বড় করা সহজ, কিন্তু একজন মাদকাসক্তকে নিয়ে কাজ করা কঠিন-উল্লেখ করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেছেন, ক্ষয়ে যাওয়া যুবসমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বুধবার রাজশাহী বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে বিভাগের আট জেলার মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রধানদের নিয়ে ‘মাদকের অপব্যবহার রোধে করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আপনারা কেউ ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটা স্থাপন করেননি। মাদক নিয়ন্ত্রণে আপনাদের চেয়ে বড়ো শিক্ষক আর কেউ নেই। এক সময় হয়তো আপনাদের কেউ কেউ ভুক্তভোগী হয়েছেন এবং সেখান থেকে ফিরে এসে অন্যকে উদ্ধার করছেন। আপনাদের এই জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দুটোই রাষ্ট্রীয় সম্পদ, এটাকে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদক নিরাময় কেন্দ্র একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। হয়তো কোনো এক পর্যায়ে আপনাদের অনেকে আসক্ত ছিলেন। এক সময় আপনাদের বোধগম্যতা ও অপরাধবোধ তৈরি হয়েছে যে, নিজের, পরিবারের এবং দেশের ক্ষতি করেছি। যারা আছে তাদের দ্বারা যেন আর ক্ষতি না হয়। এক ধরনের ক্ষতিপূরণের ভাবনা থেকে এটা করেছেন। এটা খুবই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। আপনাদের কাজের প্রতিদান রাষ্ট্র বা কারও পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

বজলুর রশীদ বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভায় দেখেছি, আমাদের মাদক ধরা পড়ার পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেশি। যারা সীমান্তে কাজ করেন তাদের নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। সীমান্ত এলাকায় যারা বসবাস করে তারা বাহক হিসেবে কাজ করে। সীমান্তে মাদক পরিবহণকারী বাড়ির মানুষ এটাকে অপরাধ মনে করে না, তারা মনে করে এটা ব্যবসা। তাদের এই মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।  

এসময় নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালকদের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো, জাতীয় গণমাধ্যমে মাদকের কুফল বিশি বেশি প্রচার, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের অনুদান বৃদ্ধি, মাদক বিক্রয়ের নতুন নতুন কৌশলের বিপরীতে নতুন কর্মপন্থা গ্রহণ, সুস্থ হওয়ার পর মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা যেন উপার্জনক্ষম হয়ে বের হতে পারেন সেই জন্য তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুপারিশ পেশ করা হয়।

রাজশাহী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আলী আসলাম হোসেন কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগে কর্মরত ৬১টি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন।