৬ ভাদ্র, ১৪৩৩
২২ আগস্ট, ২০২৬

সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য নির্মূল করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Admin Published: May 26, 2026, 4:38 pm
সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য নির্মূল করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিএনএন ডেস্ক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য নির্মূল করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে আইনের শাসনের দুর্বলতার সুযোগে সেখানে ‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ গড়ে উঠেছিল।


মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও দেশ অস্থিতিশীল হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব ও পুলিশ একাডেমি নির্মাণের উদ্যোগের খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। তবে অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি পুরোপুরি নির্মূল করা হবে।


এদিকে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আগে থেকে যথাযথ নজরদারির ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ। জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথবাহিনীর একাধিক ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। রোববার (২৪ মে) গভীর রাতে একদল সন্ত্রাসী ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় যৌথবাহিনীও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। হামলার আগে একটি ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনাও ঘটে। প্রাথমিকভাবে এ হামলার সঙ্গে ইয়াসিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ করছে পুলিশ।


সংশ্লিষ্টরা জানান, সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুর হয়ে আলীনগরে প্রবেশের কয়েকটি সড়ক কেটে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি ‘দেশের ভেতর আরেক দেশ’ হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড চলত বলে অভিযোগ রয়েছে।


গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্যের অংশগ্রহণে জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের পর এলাকা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সন্ত্রাসীদের পুনর্গঠন ঠেকাতে সেখানে স্থায়ী চৌকি স্থাপন করা হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, ওই অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। বর্তমানে এলাকায় যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান চলছে।