৭ ভাদ্র, ১৪৩৩
২২ আগস্ট, ২০২৬

সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে বাঁচার আশার ২৩ বছর পূর্তি উদযাপন

Admin Published: February 15, 2026, 6:35 pm
সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে বাঁচার আশার ২৩ বছর পূর্তি উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার : হিজড়া-সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করা বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। রবিবার বিকেলে পবা উপজেলার নওহাটা বাজারে সংগঠনের নিজ কার্যালয়ে কেক কাটা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়। এসময় বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার এর পক্ষ থেকে বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব শেখ মো. মকবুল হোসেন। সংগঠনের সমন্বয়কারী আখতারুজ্জামানে সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও পবা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব কাজী নাজমুল ইসলাম, যুবনেতা সুজন মোল্লা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি মো. মোস্তফা সরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ মো. মকবুল হোসেন বলেন,“হিজড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সামাজিক সচেতনতা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে যে কাজ করে যাচ্ছে, তা সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করছে। স্থানীয় পর্যায়ে এমন সংগঠনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন,“প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাঁচার আশা শুধু সাংস্কৃতিক চর্চাই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধ ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। গণমাধ্যম ও সমাজের সচেতন মহলকে এই ধরনের উদ্যোগের পাশে থাকতে হবে।”

সভাপতির বক্তব্যে মো. মোস্তফা সরকার বলেন, ২০০৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৫৫ জন সদস্য নিয়ে সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে হিজড়া সদস্য ১২৭ জনসহ মোট সদস্য সংখ্যা ২৭৪ জনে উন্নীত হয়েছে। তিনি জানান, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, আর্থিক স্বাবলম্বিতা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ ও টেকসই সংরক্ষণে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গত ২৩ বছরে বাঁচার আশা সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থার সহায়তায় ২২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও নেটওয়ার্কিং গড়ে তুলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মূলধারায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই তাদের এই দীর্ঘ পথচলা।