স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর তানোরে দূর্বৃত্তের আগুনে বসতবাড়ির সাতটি গবাদিপশু আর দু’টি খড়ের পালা পুড়ে গেছে। পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ লাক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এনিয়ে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তানোর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়। তানোর সদরের কলেজপাড়ায় ও সিন্দুকাই মহল্লায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানোর সদরের কলেজপাড়া এলাকায় মৃত গোফ্ফার প্রামাণিকের মেয়ে বানেসা বানু (৫৩) ছোট একটি বাড়িতে কাজের পাশাপাশি দু’টি গাভি ও পাঁচটি ছাগল পালন করতেন। প্রতিদিনের মতো গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে বানেসা বানু ঘুম থেকে জেগে ঘরে আগুন দেখে বাইরে বেরিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা এসে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে, আগুনে বানেসা বানুর শরীরের প্রায় পঁচিশ ভাগ পুড়ে যায়। এছাড়াও বসতবাড়ি, দু’টি গরু ও পাঁচটি ছাগল পুড়ে যায়। এ অগ্নিকাণ্ডে তার চার লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে, গোয়াল ঘরে মশার কয়েলের আগুনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করেছেন প্রতিবেশি আব্দুর রাহীম।
একই দিন রাতে তানোর পৌর এলাকার সিন্দুকাই মহল্লার বাসিন্দা মো. মোস্তফা কামালের প্রায় ৭ বিঘা জমির খড়ের পালা ও মো. তামেজ শাহ'র প্রায় ৬ বিঘা জমির খড়ের পালায় দূর্বৃত্তরা আগুন দেয়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন যাবার আগেই বেশির ভাগ খড় পুড়ে গেছে। এতে তাদের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে মোস্তফা কামাল জানান।
তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান বলেন, আগুনে বসতবাড়ির সাতটি গবাদিপশু আর দু’টি পৃথক খড়ের পালা পুড়ে গেছে। এসব ঘটনা নিয়ে অভিযোগের পরে তদন্ত শুরু হয়েছে। সত্যতা প্রমানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তানোর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে দেওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে, একইদিন রাতে উপজেলার পৃথক তিনস্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলেও তিনি জানান।