স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর সর্বত্র এখন জমজমাট ভোটের প্রচার। নগর ছাড়িয়ে গ্রামের পথে পথে কেবল ভোটের আমেজ। প্রার্থী আর সমর্থকদের প্রচারে প্রতিদিন মুখর হয়ে থাকছে কৃষককের উঠান থেকে গ্রামীণ হাট-বাজার। জেলার সবকটি আসনেই বইছে জোরতাল ভোটের হাওয়া। কাগুজে পোস্টার না থাকলেও পথঘাট ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুনে। বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও জোরতাল প্রচারে রয়েছেন শুধু বিএনপি আর জামায়াতের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। সাদা কাপড়ে কালো অক্ষরে লিখা ব্যানার ফেস্টুনে শোভা পাচ্ছে ভোটের মাঠ। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কানে বিধছে ভোটের মাইকিং। গানে গানে প্রার্থীদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা অনেকের বিরক্তির কারণ হলেও ভোটের উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ভোটের মাঠে প্রার্থীদের মুখে মুখে যেমন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ফুটছে তেমনভাবেই লঙ্ঘিত হচ্ছে আচরণবিধি। ইতিমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতের বেশীর ভাগ প্রার্থী। তাদের আদালতে তলবও করা হয়েছে। তবুও অনেকেই প্রচারের ক্ষেত্রে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন। কেউ গাছে ফেস্টুন লাগিয়ে শোকজ হচ্ছেন, আবার কেউ সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করে আচরণবিধি ভাঙছেন।
ভোটের মাঠে এখন সবচেয়ে প্রার্থীদের মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। নির্বাচিত হলে কী কী করবেন আর কী কী করবেন না তার বয়ান চলছে ভোটের মাঠে-জনসংযোগে। ক্যানভাসে গিয়ে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি লোভনীয় সব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা।
রাজশাহীর সবকটি আসনেই ভোটের প্রচারে মাঠে এখন উৎসবের আমেজ। সকাল হলেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রার্থীদের জনসংযোগ আর ছোট ছোট মিছিলে উৎসবের রূপ নিচ্ছে ভোটের মাঠ। দুপুরের পর মাইকের আওয়াজে মুখরিত হচ্ছে শহর থেকে গ্রাম।
রবিবারেও রাজশাহীর আসনগুলোই বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের প্রচার দেখা গেছে। ইতিমধ্যে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার লাগিয়েছেন প্রার্থীরা। রাজশাহী শহরে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মাইকের আওয়াজ এখন মুখর করে তুলেছে ভোটের মাঠ। দুপুরের পর মাইকে গানে গানে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারের শব্দ কানে আসছে। নগরীর ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর ধানের শীষের পক্ষে মিছিল বের হচ্ছে প্রতিদিন।
প্রার্থীদের প্রচারে সাধারণ ভোটাররা উদ্দেলিত হলেও প্রতিশ্রুতিকে মিথ্যা বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থণা করাও বড় প্রতারনা। রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছি এলাকার বাসিন্দা নাজমুল করিম বলেন, সচেতন ভোটাররা ভোট দিতে ভুল করেন না। তারমতে প্রতিশ্রুতিরও একটি সীমা রয়েছে। ভোটের মাঠে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের পর আর তাদের দেখায় মিলে না। তাই প্রতিশ্রুতি না দিয়ে কর্মসংস্থানে বিষয়ে ভাবতে হবে প্রার্থীদের।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের ভোটরারা বলেন, এখানে বিএনপি জামায়াতের দুই প্রার্থীই শক্তিশালী। তবে যার মাধ্যমে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের আশা পাবেন তাদের পক্ষেই শেষ পর্যন্ত ভোট দেবেন। শহরের ভোটাররা বলছেন, তারা যোগদের পক্ষে থাকবেন।
সবমিলিয়ে রাজশাহীর সংসদীয় ৬ টি আসনেই এখন তুঙ্গে প্রচার-প্রচারনা। প্রার্থী ও সমর্থকদের কারো আর হাতে সময় নেই। রাতদিন তাই ভোটের মাঠেই কাটছে তাদের সময়। রাজশাহীতে ২৯ জন প্রার্থী থাকলেও মাঠে সোচ্চার রয়েছেন ৬ টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের ১২ প্রার্থী। মুলত এদের মধেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস রয়েছে।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব) শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে লড়াই জমেছে জামায়াতের প্রার্থী ও কেন্দ্রিয় জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের। সমান শক্তি নিয়ে মাঠ চোষে বেড়াচ্ছেন তারা।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে এবার তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মিলনের মুখোমুখি হয়েছেন এবার জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির প্রাথী ডিএম জিয়াউর রহমান লড়ছেন জামায়াত প্রার্থী ডা. আবদুল বারীর। ভোটের মাঠে দুজনই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসমানের সঙ্গে ভোটযুদ্ধে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনজুর রহমান।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদের সঙ্গে লড়াই জমেছে জামায়াতের প্রার্থী নাজমুল ইসলামের। ভোটেরমঠে সবাই এখন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদি। সবাই সমানে দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতি।