স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাঘায় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে যাত্রীবাহী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাবা ও মেয়ের পা বিচ্ছিন্নের পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বাবা শান্ত ইসলাম (২৮)। আর মুমূর্ষূ অবস্থায় রামেকের আইসিইউতে চিকিৎসাধিন ৫ বছরের মেয়ে উম্মে তুরাইয়া। শান্তর বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার বেরিলাবাড়ি গ্রামে। তার বাবার নাম আজাহার আলী।
দুর্ঘটনায় একই সঙ্গে আহত হয়েছেন নিহতের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। তিনিও চিকিৎসাধিন। সোমবারে সকালে দুর্ঘটনার পর বিকেলে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মারা গেছেন শান্ত ইসলাম বলে নিশ্চিত করেছেন তার শ্যালক আবিদ হাসান ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে মোটরসাইকেলে শিশুকন্যা তুরাইফাকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন শান্ত ইসলাম। এ সময় শান্ত ইসলামের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জেসমিনও একই মোটরসাইকেলে ছিলেন। পথে বাঘা পৌরসভার বানিয়াপাড়া এলাকায় বাঘা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই বাবা-মেয়ের ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একইসঙ্গে ডান হাতে আঘাত পান জেসমিন আক্তার। পরে তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তাদের চিকিৎসা শুরু হয়।
শান্ত ইসলামের শ্যালক আবিদ হাসান জানান, তার বোন জেসমিন আক্তারকে রামেক হাসপাতালের আর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বাবা-মেয়েকে বিকেল ৪টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিলো। তবে বিকেল ৫ টার দিয়ে শান্ত ইসলামের মৃত্যু হয়।
রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শংকার কুমার বিশ্বাস বলেন, বাবার ও মেয়ের একটি করে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। তবে শারিরিক অবস্থার অবনতি হলে রামেকের সার্জারী আইসিউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধিন অবস্থায় শান্ত ইসলাম মারা যান। তার লাশ হাসপাতালের মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে।
বাঘা থানার ওসি আফম আছাদুজ্জামান জানান, ঘটনার পর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। বাস ও মোটরসাইকেল থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।