২৪ কার্তিক, ১৪৩৩
০৮ নভেম্বর, ২০২৬

বাঘায় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার, সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদকের চালান

Admin Published: November 8, 2026, 5:30 pm
বাঘায় মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার, সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদকের চালান

স্টাফ রিপোর্টার ,বাঘা : রাজশাহীর বাঘায় মাদকসংক্রান্ত মামলায় ১ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের কিশোরপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে পুলিশের এ গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে এল।


গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো: আনিসুর রহমান। তিনি কিশোরপুর গ্রামের মাজদার রহমানের ছেলে। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫বি(২) ধারায় করা একটি মামলায় আদালত তাঁকে ১ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড দেন। ওই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল হকের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


তবে এ থানায় শুধু একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির গ্রেপ্তারই নয়, বাঘার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারত থেকে নদীপথে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে নিয়মিত মাদকের চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। আলাইপুর, কিশোরপুর, গোকুলপুর, পাকুড়িয়া, মীরগঞ্জ, মহাদিপুর, মুর্শিদপুর, চাঁদপুর ও সরের হাট-সহ একাধিক এলাকায় মাদকের সরবরাহ রয়েছে। এসব চালানে ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ আসে বলে তাঁদের দাবি।


বাঘা সীমান্ত এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য সিয়ার উদ্দিন জালান , ভারত থেকে নদীপথে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়ত মাদকের চালান আসে। এসব অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে সীমান্ত এলাকার কিছু মানুষের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর মতে, মাদকের সরবরাহ বন্ধে সীমান্তে আরও কার্যকর নজরদারি ও সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন।


বাঘা থানার ওসি সিরাজুল হক বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় বাঘায় আগে থেকেই মাদকের সমস্যা রয়েছে, এখনো আছে। তবে তিনি এখানে যোগদানের পর থেকে নিয়মিত মাদকসহ আসামি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মাদক যুবসমাজকে ধ্বংস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাঁর কোনো আপস নেই।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাঘা সীমান্ত এলাকায় আলাইপুর ও মীরগঞ্জে বিজিবির পৃথক দুটি ক্যাম্প রয়েছে। বিজিবি সদস্যরাও মাঝেমধ্যে মাদক আটক করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজিবির দায়ের করা কিছু মামলায় মাদকদ্রব্যের মালিক বা বহনকারীকে শনাক্ত না করে শুধু ‘পরিত্যক্ত’ হিসেবে দেখানো হয়। এতে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। আসামি গ্রেপ্তারে বিজিবির তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের লোকজন।


স্থানীয়দের মতে, বিচ্ছিন্নভাবে মাদক উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পথ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা জরুরি। পুলিশ, বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে মাদকের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই মাদক সরবরাহের উৎস বন্ধ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।