৪ কার্তিক, ১৪৩৩
১৯ অক্টোবর, ২০২৬
বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস

বিউটিফিকেশন প্রশিক্ষণ হতে পারে আত্মনির্ভরতার অনন্য হাতিয়ার

বিউটিফিকেশন প্রশিক্ষণ হতে পারে আত্মনির্ভরতার অনন্য হাতিয়ার

আজ ১৫ জুলাই বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস । দিবসটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার দক্ষ যুবসমাজ। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও যুব মহিলাদের জন্য কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুধু কর্মসংস্থানের পথই নয়, বরং মর্যাদাপূর্ণ ও আত্মনির্ভর জীবনের ভিত্তি গড়ে দেয়।

সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বিউটিফিকেশন বা সৌন্দর্যসেবা খাতও আমূল বদলে গেছে। একসময় ঢাকার বাইরের অধিকাংশ বিউটি সেন্টার মূলত বধূসজ্জা, পার্টি মেকআপ বা ভ্রু পরিচর্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে এই খাত ত্বকের বৈজ্ঞানিক পরিচর্যা, হেয়ার কাটিং ও হেয়ার কেয়ার, নখের যত্ন, ফেসিয়াল, ব্রাইডাল মেকওভার, স্পা, প্রসব-পরবর্তী মায়ের পরিচর্যা, যোগব্যায়াম, ডায়েট পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসম্মত স্কিন কেয়ারের মতো আধুনিক সেবায় সমৃদ্ধ হয়েছে। ফলে এটি সৌন্দর্যচর্চার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসচেতন জীবনধারারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।


সৌন্দর্যচর্চার ইতিহাসও সুদীর্ঘ। প্রাচীন মিসরের রানি ক্লিওপেট্রাসহ বিভিন্ন রাজপরিবার পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান সংগ্রহ করতেন। মৃত সাগরের খনিজসমৃদ্ধ কাদা (Dead Sea Mineral Clay) আজও বিশ্বব্যাপী ত্বকের পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়। আধুনিক গবেষণা ঐতিহ্যবাহী সেই চর্চাকে আরও বৈজ্ঞানিক ও নিরাপদ করেছে। বর্তমানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সের মানুষ সৌন্দর্য ও সুস্থতা রক্ষায় আগ্রহী। প্রাকৃতিক, ভেষজ ও পরিবেশবান্ধব উপাদানের ব্যবহার এই শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

আজ দক্ষ হেয়ার স্টাইলিস্ট, স্কিন কেয়ার বিশেষজ্ঞ, ব্রাইডাল এক্সপার্ট ও ওয়েলনেস কনসালট্যান্টদের চাহিদা দেশ-বিদেশে ক্রমবর্ধমান। সিঙ্গাপুর, ব্যাংককসহ বিভিন্ন দেশে প্রশিক্ষিত জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিউটিফিকেশন এখন কেবল সৌখিনতার বিষয় নয়; এটি সম্ভাবনাময় সেবা ও উদ্যোক্তা খাত।


যুব উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি উদ্যোগও আশাব্যঞ্জক। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী র উপস্থিতিতে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়!  প্রসঙ্গত যুব উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যথাযথ নীতিমালা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে এই খাতের নতুন উদ্যোক্তারাও এর সুফল পেতে পারেন।


সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতায় দেখেছি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী মুলত আদিবাসী যুবক যুবতীরা  এখন মুল স্রোতে আসার জন্য যথেষ্ট সক্রিয় হচ্ছে।  ভিটে মাটি সম্বল অনেকে এখন পূর্বতন সনাতনী  আনপ্রেডিক্টেবল পেশা ছেড়ে  আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য  উপযুক্ত পেশা পেতে আগ্রহী। বিশেষ করে স্বল্প বা তদূর্ধ্ব তরুনদের পাশাপাশি তরুণী যুব রা বিউটিফিকেশন ,  নার্সিং  পেশায় কম্পিটিশনে এগিয়ে আছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ,  সমাজ সেবা অধিদপ্তর অধীন  বিভিন্ন মৌলিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণে তাদের অংশগ্রহণ  বেশ আশাব্যন্জক। তবে তৃনমুল পর্যায়ে এ সচেতনতা সৃজন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পাশাপাশি  সমাজের  সূধী মহলের মোটিভেশান,  ক্যারিয়ার বিষয়ক প্রচারণা ইত্যাদি ক্ষেত্রে  সহযোগিতা অপরিহার্য  বিষয় ।  একথা

 অনস্বীকার্য যে 'অর্জিত দক্ষতা মানুষের আজীবনের সম্পদ। মানুষ, সম্পর্ক কিংবা সম্পদ হারিয়ে যেতে পারে; কিন্তু দক্ষতা জীবনভর আত্মবিশ্বাস, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সঙ্গী হয়ে থাকেবিশ্ব যুব দক্ষতা দিবসে আমাদের প্রত্যাশা—প্রতিটি তরুণ-তরুণী সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মনির্ভর হবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে। 

 

লেখক- রিসোর্স ট্রেইনার, যুব উন্নয়ন ও সমাজ সেবা অধিদপ্তর, বিউটি এক্সপার্ট এবং ওনার, ভেনাস বিউটি সেন্টার, রাজশাহী। ইমেইল-mostari.shabnam@ gmail.com