স্টাফ রিপোর্টার :রাজশাহীর বাগমারার এক তাঁতিদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে এক ব্যক্তিকে মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত অবস্থায় নারায়ন ভবানী (৫৫) নামের ওই ব্যক্তিকে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৪ অক্টোবর মব তৈরির সময় রামদাসহ তাঁতিদল নেতাকে ধরে লোকজন সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। ওই নেতার নাম নবাব হোসেন (৩০) ওরফে বাচ্চু। তিনি উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের চাঁইসাড়া গ্রামের মুনসুর রহমানের ছেলে। তিনি জাতীয়তাবাদী তাঁতিদলের গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের চাঁইসাড়া গ্রামের বাসিন্দা নারায়ন ভবানী নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে সপ্তাহ খানেক আগে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন তাঁতিদলের নেতা নবাব হোসেন। ওই গ্রামে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে। না দিলে সমস্যা হবে বলে জানান। তবে তিনি টাকা দিতে অপারগতা জানান। মঙ্গলবার বেলা ১২ টার দিকে নারায়ন ভবানী গ্রামের এক চালকল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তাঁতিদলের নেতা নবাব হোসেন তার গতিরোধ করেন। তাকে কেন পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়নি এ নিয়ে কৈয়ফিয়ত চান। এক পর্যায়ে নবাব ক্ষুব্ধ হয়ে সেখানেই মারপিট করে নারায়ন ভবানীকে আহত অবস্থায় ফেলে চলে যান।
পরে লোকজন উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ঘটনাটি জানাজানি হলে গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক নারী ও পুরুষ এর প্রতিবাদে ২০ কিলোমিটার দূরে বাগমারা থানায় আসেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তাঁতিদল নেতাকে গ্রেফতার ও নিজেদের নিরাপত্তার দাবি জানান। পুলিশ মামলা গ্রহণ, গ্রেফতার ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিলে তারা থানা চত্ত্বর ত্যাগ করেন।
ওই গ্রামের বাসিন্দা বিজয় কুমার (৪০), গন্ধব রাণী (৫৪), সুলেখা রাণীসহ (৬০) ২০-২৫ জন বাসিন্দা জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁতিদলের নেতা চাঁইসাড়া হিন্দুপাড়ায় চাঁদাবাজি করে আসছে। টাকা ছাড়াও ধান এবং চাল চাঁদা দিতে হয়। নিয়মিত ভাবে চাঁদা আদায় করে। অনেককে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয়। নবাব হোসেন সব সময় ধারাল অস্ত্র নিয়ে চলাফেরার কারণে প্রতিবাদ করতে পারেন না বলে জানান।
ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপির উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, এর আগে লোকজন নবাবকে ধারাল অস্ত্রসহ ধরে সেনাবাহিনীর সদস্যদের হাতে তুলে দিয়েছিল।
এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও নবাবেব সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁতিদলের উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। নবাবের অপরাধের দায় বিএনপি বা অঙ্গ সংগঠন নিবে না।
স্থানীয়রা জানান, নবাব হোসেন উপজেলা বিএনপির এক নেতার ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত। ওই নেতার নির্দেশে এসব কর্মকাণ্ড করে থাকেন।
বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ মামলা গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নিবে। নবাবের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ তাকে আটকের চেষ্টা করছে।