২ কার্তিক, ১৪৩৩
১৭ অক্টোবর, ২০২৬

ধানক্ষেতে মিলল কিশোরীর মরদেহ, পাশে ছিল অটোরিকশা

Admin Published: October 9, 2026, 11:39 am
ধানক্ষেতে মিলল কিশোরীর মরদেহ, পাশে ছিল অটোরিকশা

ডিএনএন ডেস্ক: কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরলেও বাসায় পৌঁছানো হয়নি ১৪ বছরের কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনের। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জেলার লালমাই উপজেলার জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়।


লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।


জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা শহরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা ওষুধ কম্পানি রেনাটা লিমিটেডের কুমিল্লা রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। চাকরির সুবাদে পরিবারটি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স ধানমণ্ডি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে।


স্থানীয় জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার পাকা সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া সংলগ্ন এলাকায় একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমিতে গিয়ে আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। মারা যাওয়া কিশোরীর গামছা প্যাঁচানো এবং মুখ মাটিতে চেপে রাখা ছিল।


নিহত কিশোরীর বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর তার একমাত্র মেয়ে তাজমিন শহরের এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। পরে সে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায়। বুধবার রাত ২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকার হোটেল নূরজাহানের সামনে এসে নামার পর তাঁকে লাইভ লোকেশন পাঠায়। সকাল পর্যন্ত বাসায় না পৌঁছালে তিনি মোবাইল ফোনটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন। 

তিনি জানান, পরে জানতে পারেন, ফোনটির অবস্থান লালমাই থানা এলাকায়। সেই সূত্র ধরে খোঁজ করতে গিয়ে জগতপুর এলাকার ফসলি জমি থেকে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।


লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহটি অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে উদ্ধার করা হয়। বিকেলে পরিচয় শনাক্ত হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।