স্টাফ রিপোর্টার : ‘ডেঙ্গু সচেতনতা জোরদারে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালা মঙ্গলবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, বিভাগীয় কার্যালয়ের ব্যাবস্থপনা ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. হাবিবুর রহমান।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুজ্বর অত্যন্ত আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। অথচ এটি খুব সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। শুধু আমাদেরকে একটু স্বচেতন হতে হবে। ডেঙ্গুজ্বর একটি মশা বাহিত ভাইরাস জ্বর। যা মূলত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত ব্যাক্তিকে কামড়ানোর পরে মশাটি ভাইরাসের বাহক হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে ওই মশাটি যে কোনো ভালো মানুষকে কামড়ালে তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পড়েন।
সাধারণনত বর্ষাকালে এবং এর পরপরই জমানো পানিতে এডিস মশা বংশ বৃদ্ধি করায় এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। সুতরাং ডেঙ্গু সংক্রমন থেকে বাঁচতে আমাদেরকে বাড়ির চারপাশ পরিস্কার রাখতে হবে, টব, টায়ার, বালতি, ডাবের খোলা, টিনের কৌটা ঈত্যাদিতে যেন পানি জমে না থাকে সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। মশার কামড় থেকে আত্মরক্ষার জন্য দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানাতে হবে। আর কেউ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে সাথে সাথে নিকস্থ ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হতে হবে এবং চিকিৎসা গ্রহনে কোন অবহেলা করা যাবে না। আর এক্ষেত্রে জনগণকে স্বচেতন করে তুলতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার জুমআর বয়ানে, ওয়াজ মাহফিল ও মিলাদ মাহফিলে এ বিষয়ে আলোনা করলে অত্যন্ত দ্রুত এবং কার্যকরভাবে জনগণকে স্বচেতন করে তোলা সম্ভব।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিবুল করিম।
অন্যান্যের মধ্যে কক্তব্য দেন শেখ মুর্শিদুল ইসলাম, উপ সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মোঃ জাকির হোসেন, পরিচালক, ইসলামী বিশ্বকোষ বিভাগ, ইসলামিক সফাউন্ডেশন ঢাকা ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর সোস্যাল এন্ড বিহেভিয়ার জেঞ্জ অফিসার উম্মে হালিমা। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন, রাজশাহীর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক এ কে এম মুজাহিদুল ইসলাম।
কর্মশালায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাতটি জেলার উপ-পরিচালকবৃন্দ, মডেল মসজিদসমূহের ইমাম ও খতীবগণ, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ অংশ গ্রহন করেন।