ডিএনএন ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে শ্রমিক না পাওয়া, অন্যদিকে সরকারি ভর্তুকির হারভেস্টার মেশিনে অতিরিক্ত ভাড়া—দুদিক থেকেই চাপে পড়েছেন কৃষকেরা।কৃষকরা জানান, বর্তমানে দুই মণ ধানের সমপরিমাণ অর্থ বা ধান দিয়েও একজন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মাঠে পাকা ধান থাকলেও সময়মতো কাটতে না পারায় ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে অনেক জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও আবার অতিরিক্ত পেকে ধান ঝরে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১২ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে হাওড় অঞ্চলের প্রায় ৫৮৫ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের জানিয়েছে, আগে যেখানে এক মণ বা তার কম ধানে শ্রমিক পাওয়া যেত, এখন দুই মণ ধানেও শ্রমিক মিলছে না। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ কাঁচা ধানের দাম ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা হলেও একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি প্রায় ১৩০০ টাকা—যা কৃষকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ভর্তুকি থাকলেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নিচ্ছেন মেশিন মালিকরা। মৌসুমে চাহিদা বেশি থাকায় দরকষাকষির সুযোগও পাচ্ছেন না কৃষকেরা।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে গড়ে প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। কিন্তু প্রতি বিঘায় গড়ে ২৫ মণ ধান উৎপাদন হলেও, প্রতি মণ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করে আয় হচ্ছে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।
চাঁদপুর ইউনিয়নের কৃষক বোরহান উদ্দিন ও মো. আলম বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে ধানের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিক সংকটে সময়মতো ধান কাটতে পারছি না। হারভেস্টার আনতেও অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে। প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। কৃষিই আমাদের একমাত্র আয়ের উৎস, এভাবে চললে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিতে শ্রমিক সংকট এখন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তাই কৃষি যান্ত্রিকীকরণ আরও জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকির সঠিক বাস্তবায়ন ও হারভেস্টার ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, টানা অতিবৃষ্টির কারণে হাওড় অঞ্চলের কিছু জমির ধান পানির নিচে রয়েছে, যা কৃষকদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় উপজেলায় ২৭টি হারভেস্টার প্রস্তুত রয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও মেশিন আনা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি বিঘা জমি কাটার সর্বোচ্চ ভাড়া ২,৫০০ টাকা। এর বেশি আদায় করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।