ডিএনএন ডেস্ক: চলতি বছরের শেষদিকে দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার (৫ মে) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ ভোটগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার কাঠামোকে আরও কার্যকর করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও তপশিল এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে। উপজেলা পরিষদকে দুর্বল করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। যথাসময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে এবং পরিস্থিতি যেকোনো সময় খারাপ হতে পারে। তবে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে বিদ্যুৎচালিত বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য এই সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি হাওর অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রত্যেককে এককালীন ৭ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।
এর আগে সংসদে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেই দ্রুত নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের কারণে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগে।
মন্ত্রী আরও জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনি সরঞ্জাম সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা, আবহাওয়া, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ও সংস্কার, নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তপশিল ঘোষণা করা হয়। এ ক্ষেত্রে অন্তত ৪৫ দিনের প্রস্তুতি সময় প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্বাচনেই ইভিএম ব্যবহার করা হবে না বলে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে এসব ইভিএম বিভিন্ন গুদাম, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।