২ কার্তিক, ১৪৩৩
১৭ অক্টোবর, ২০২৬

দুর্গাপুরে দারা-মনসুরসহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-নাশকতার মামলা

Admin Published: September 4, 2024, 5:55 pm
দুর্গাপুরে  দারা-মনসুরসহ ২০০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস-নাশকতার মামলা

প্রফেসর ডা. মনসুর রহমানসহ অন্তত দুই শতাধিক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর নামে রাজশাহীর দুর্গাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পৌর এলাকার চক জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের শাহাদাত হোসেন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক প্রদ্যুত কুমার সরকার, দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল গফুর ও ঝালুকা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইমরান আলী। 

দারা ও ডা. মনসুর রহমান ছাড়াও মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামীরা হলেন, উপজেলা পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুজ্জামান শরিফ, সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সরদার, পৌরসভার সাবেক মেয়র সাজেদুর রহমান মিঠু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ফিরোজ। 

আব্দুল ওয়াদুদ দারা রাজশাহী-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালেও বিনাভোটে পুণরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন প্রফেসর ডা. মনসুর রহমান। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত আব্দুল ওয়াদুদ দারা। এরপর সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদেও রয়েছেন আব্দুল ওয়াদুদ দারা। 

দুর্গাপুর থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সহযোগীতাকারীদের হত্যার উদ্দ্যেশ্যে দুর্গাপুর উপজেলা সদরের মেডিকেল মোড়ে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে বোমাবাজি করে নাশকতা সৃষ্টি করেন আসামীরা।

মামলার অপর আসামীরা হলেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজাহার আলী, মাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সম্রাট, কিসমত গণকৈড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান  আকতার আলী, নওপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, নওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আক্কাছ আলী, কিশমত গনকৈড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ, পানানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আদম আলী, দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নাজমুস সাদাত নজম, ঝালুকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আকবর আলী, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মিঠু, সাধারন সম্পাদক ছালিমুদ্দিন, পৌর যুবলীগের সভাপতি বেলাল হোসেন, সাধারন সম্পাদক আবুল বাশার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল খান, সাধারন সম্পাদক রিপন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন সহ এজাহার নামীয় ৭০জন। এছাড়াও এই মামলায় অজ্ঞাত আসামী দেখানো হয়েছে প্রায় ১৫০/২০০ জন।

দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবিএম মাসুদ জানান, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে এজাহার নামীয় আসামীরা বাদী ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি অভিযোগে এজাহার দায়ের করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এজাহারটি মামলা হিসেবে রজ্জু করা হয়েছে। মামলার এজাহার নামীয় তিন আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামীদের গেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।