২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
০৯ মে, ২০২৬

গাজীপুরে ৫ জন খুন: লাশের উপর ছিল ঘাতকের অভিযোগ পত্র

Admin Published: May 9, 2026, 6:16 pm
গাজীপুরে ৫ জন খুন: লাশের উপর ছিল ঘাতকের অভিযোগ পত্র

ডিএনএন ডেস্ক: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় একই পরিবারের ৫ জন খুন হওয়া লাশের উপর পাওয়া গেছে ঘাতকের অভিযোগ পত্র। অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়া এবং ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছে ঘাতক।শনিবার (৯ মে) দুপুরে পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এর আগে শুক্রবার দিনগত রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।


নিহতরা হলেন, গোপালগঞ্জ সদর থানার মেরী গোপীনাথপুর এলাকার মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তার তিন মেয়ে মিম খানম (১৪), উম্মে হাবিবা ওরফে মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (১৮)।


জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর থানার মেরী গোপীনাথপুর এলাকার আতিয়ার রহমান মোল্লা ছেলে মো. ফোরকানের (৪০) সাথে একই থানার পাইককান্দি এলাকার মো. সাহাদৎ মোল্যার মেয়ে শারমিন খানমের (৩৫) বিয়ে হয়।


তাদের তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তারা পরিবারসহ কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় মনির হোসেনের বাসায় ভাড়া থাকতো।

শুক্রবার রাতের কোন এক সময় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় ফোরকান। হত্যার পরেই ফোরকান লাশের উপর অভিযোগ পত্র রেখে যায়।

গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর এ অভিযোগ পত্রে লিখা রয়েছে, তার স্ত্রী শারমিন খানম কয়েকজন ছেলের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক করে আসছে। এছাড়া তার স্ত্রী এবং শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে তাদের নামে জমি ক্রয় করে আত্মসাত করেছে। এক পর্যায়ে গত ৩ মে সন্ধ্যায় তার স্ত্রী ও শশুর বাড়ির লোকজন মিলে হাত ও পা রশি দিয়ে বেঁধে ফোরকানকে মারধর করে। ওই অভিযোগে ফোরকান ১১ জনের নাম উল্লেখ করে।


গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালীগঞ্জ- সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ওই অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে কাপাসিয়া থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম জানান, শুক্রবার রাতে খাবারের সাথে তার শ্যালক, স্ত্রী সন্তানদের চেতনা নাশক খাওয়ায়। এক পর্যায়ে গভীর রাতে তার স্ত্রীকে জানালার গ্রিলের সাথে হাত মুখ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে ঘুমিয়ে থাকা ৩ মেয়ে ও শ্যালককে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এক পর্যায়ে ওই ৫জনকে হত্যা করে সে রাতেই পালিয়ে যায়। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।