৪ কার্তিক, ১৪৩৩
১৯ অক্টোবর, ২০২৬

‘ইন্টারনেট এখন মানুষের জীবনে অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে অপব্যবহার উদ্বেগজনক’

Admin Published: September 20, 2025, 6:24 pm
‘ইন্টারনেট এখন মানুষের জীবনে অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে অপব্যবহার উদ্বেগজনক’

স্টাফ রিপোর্টার: ডিজিটাল যুগে ইন্টারনেট এখন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তবে এর অপব্যবহার ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নানা ধরনের হয়রানি, প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছেন। অনলাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে তাই সচেতনতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং আইনি সহায়তার গুরুত্ব অপরিসীম। এই প্রেক্ষাপটে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমধর্মী কর্মশালা।

শনিবার সকালে নগরীর নানকিং দরবার হলে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ‘নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ সাইবারস্পেস: বিদ্যমান প্রযুক্তিগত ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গির চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে দোলা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা (ডিএমইউএস)। এতে সহযোগিতা করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।

কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়, অনলাইনে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভুয়া আইডি, ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, অশ্লীল বার্তা ও ভিডিও পাঠানো, ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে হয়রানি এবং আর্থিক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অনেক ভুক্তভোগী বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনতে ভয় পান। ফলে অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে ওঠে।

গবেষণায় আরও বলা হয়, অনলাইন হয়রানির শিকার হলে ভুক্তভোগীরা নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করতে পারেন। পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের অধীনে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব। তবে এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের জন্য ইন্টারনেটকে নিরাপদ করা আমাদের সবার দায়িত্ব। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদেরও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল জানতে হবে।

দোলা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, রাজশাহী বারের সাধারণ সম্পাদক জমশেদ আলী, দোলা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. শহিদুল্লাহ আনসারী, আরএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রওনক আরা পারভীন, আরএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (শাহমখদুম) সাবিনা ইয়াসমিন, উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মীর মো. শাফিন মাহমুদ প্রমুখ।

তাঁরা বলেন, প্রযুক্তি এখন যেমন আমাদের জীবনে গতি এনেছে, তেমনি এটি বড় হুমকির কারণও হয়ে উঠেছে। শিশু-কিশোররা অল্প বয়সেই মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, কিন্তু তারা ঝুঁকি সম্পর্কে জানে না। তাই পরিবারে শিশুদের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে সাইবার ক্রাইম ইউনিট থেকে সহায়তা নিতে হবে।