৩ কার্তিক, ১৪৩৩
১৮ অক্টোবর, ২০২৬

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

Admin Published: September 21, 2026, 10:47 pm
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহী মহানগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরী। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুন


সরকার সোমবার থেকে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে। নতুন দরে ডিজেল ১৩৫, পেট্রোল ১৬০, অকটেন ১৬৫ ও কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 


পথসভায় জামায়াত নেতারা বলেন, “জনস্বার্থবিরোধী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা না হলে প্রয়োজনের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।”


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি জসিম উদ্দীন সরকারের সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগরীর নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম। মহানগরীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডলের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মহানগরীর নায়েবে আমির চিকিৎসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের রাজশাহী মহানগরীর সভাপতি সারোয়ার জাহান প্রিন্স, তরবিয়ত সেক্রেটারি হাফেজ নুরুজ্জামান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুস সামাদ ও জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সেক্রেটারি সালাউদ্দিন আহমেদ।প্রবাসী নেটওয়ার্কে যোগদিন



এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহপ্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান আশু, মহানগর জামায়াতের অফিস সম্পাদক তৌহিদুর রহমান সুইট, রাজপাড়া থানা আমির নূরুল ইসলাম মনি, কাশিয়াডাঙ্গা থানা আমির ফরিদ উদ্দিনসহ মহানগরী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


নেতারা বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি পণ্যের দাম বাড়ানো নয়; এর সঙ্গে পরিবহন, কৃষি, উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের ব্যয় সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়বে।”



তারা আরও বলেন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের মতামত, জীবনযাত্রার ব্যয় ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়েও সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।সরকারি সেবা খুঁজুন


নেতাদের ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি জনগণের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। এর প্রভাবে পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারকে জনগণের ওপর এই বাড়তি চাপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।


নেতারা আরও বলেন, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে। এর ফলে শিল্প-কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাচ্ছে। সরকারের দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।


সমাবেশ থেকে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।