ডিএনএন ডেস্ক: রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ (ইমি) দুই মাস পর কারামুক্ত হয়েছেন। হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে বৃহস্পতিবার (৭ মে) তিনি মুক্তিলাভ করেন।এদিন দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে জেলার শিরিন আক্তার।
তিনি বলেন, জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছালে সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
ইমির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। গত ৩০ এপ্রিল তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। এর আগে একবার তার জামিন আবেদন নাকচ হয়েছিল।
কারামুক্তির বিষয়টি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহা. নোমান হোসাইন। তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। কারামুক্ত ইমি, পাশে থাকা সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ মার্চ রাত সাড়ে নয়টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমিসহ কয়েকজন। রিকশায় করে মাইকে ভাষণ বাজানোর সময় ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল তাতে বাধা দেয়।
একপর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী রিকশাসহ শেখ তাসনিম আফরোজ এবং আবদুল্লাহ আল মামুনকে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। এ সময় থানার ভেতরেই আবদুল্লাহ আল মামুনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে।
পরে পুলিশ তাদের আটক করে রাখে। পরদিন থানা হেফাজতে আটক থাকা আসিফ আহমেদ সৈকতসহ তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করে পুলিশ।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ইমির জামিন আবেদন শুনানি শেষে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে ইমির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহা. নোমান হোসাইন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন।
পরে গণমাধ্যমকে আইনজীবী মুহা. নোমান হোসাইন বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ দলীয় স্লোগান নয় কিংবা নিষিদ্ধ কিছু নয়। ইমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সারবত্তা নেই। জামিন আবেদনকারী একজন নারী, তিনি ৫৩ দিন ধরে কারাগারে আছেন— মূলত এসব যুক্তিতে জামিন চাওয়া হয়। হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। ফলে তার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।’