রাবি সংবাদদাতা : খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়াতে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদ ও ধর্ষকদের বিচারের দাবি জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাবি ও রুয়েটের আদিবাসী শিক্ষার্থীবৃন্দ । শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘রাবি ও রুয়েট আদিবাসী শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
পরে বিকেল সোয়া ৫টায় প্যারিস রোড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে । এসময় শিক্ষার্থীরা ‘আছিয়া থেকে চিংমা, খুন ধর্ষণ আর না!’, ‘নাড়ীর উপর নিপীড়ন বন্ধ কর’, ‘নিজ ভূমিতে আদিবাসী নারী অনিরাপদ কেন?’, ‘অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়ন কর’, ‘পাহাড় থেকে সমতলে লড়াই হবে সমান তালে’, ‘জুম্ম নারীদের প্রতি সহিংসতা বন্ধ কর’, ‘পর্যটনের নামে দখল
নয়, ধর্ষণ নয়-আমাদের ভূমি আমাদের অধিকার’, এবং ’রাষ্ট্রীয় হেফাজতে বম হত্যা বন্ধ কর’ প্রভৃতি লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সমাবেশে ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রিছার্চ চাকমা বলেন, ‘পাহাড়ি নারীরা নিজের ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। বিভিন্ন সময়ে আমরা প্রতিবাদ করতে গেলেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আপনাদের বলতে চাই,
আমরা যদি রুখে দাঁড়াই, পার্বত্য চট্টগ্রাম অচল হয়ে যাবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ঘটনা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি প্রশাসনের ধর্ষকদের প্রশ্রয় দেওয়াকে
নির্দেশ করে।’ সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী শামিন ত্রিপুরা বলেন, ‘পাহাড়ে এসব ঘটনার দায়
অর্ন্তবর্তী সরকার এড়াতে পারেন না। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে না পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আপনি
পদত্যাগ করে নেন। আরেক শিক্ষার্থী শ্যামল জুম্মু বলেন, ‘আমরা এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এর আগেও বারবার দেখেছি পাহাড়িদের ধর্ষণ ও হামলা হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। আমরাও তো স্বাধীনতা যুদ্ধে গিয়েছিলাম, তারপরও আমাদের সাথে এত বৈষম্য কেন? আমরা চিংমার ধর্ষণ ও খুনসহ সকল ঘটনার প্রতিবাদ জানাই।’
এর আগে, এর আগে গত ২৭ জুন অষ্টম শ্রেণির ওই কিশোরী ‘দলবেঁধে ধর্ষণের’ শিকার হয়। তবে বুধবার রাতে ঘটনাটি জানতে পারে তার পরিবার। এরপর রাতেই ওই কিশোরীর বাবা থানায় মামলা করেন। মামলা পরপর রাতেই ছয় আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরমান হোসেন (৩২), সদস্য ইমন হোসেন (২৫) ও এনায়েত হোসেন (৩৫) এবং শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (৩২)। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনির ইসলাম (২৯) ও ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল ইসলাম (২৩)। তারা পলাতক আছেন।