স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে বক্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘পিআর পদ্ধতি ছাড়া কোনো নির্বাচন বাংলাদেশে হতে দেওয়া যাবে না।’ এ সময় তারা বলেন, ‘প্রয়োজনে বাংলাদেশে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে’।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত, গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা, বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের বিচার এবং বিচার চলাকালীন তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে রাজশাহীতে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ পথসভায় বক্তব্য দেন- দলটির রাজশাহী জেলার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুরশিদ আলম ফারুকী, মহানগরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমদ ও জেলার সাধারণ সম্পাদক তারিক উদ্দিন প্রমুখ।
বক্তারা আরো বলেন, ‘গত ৫৪ বছরে যারা শাসক হিসেবে ছিল তারা কখনোই শাসন করেনি, শোষণ করেছে। স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ মুক্তির যে আশা করেছিল এখন পর্যন্ত তা দেখতে পায়নি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসী মুক্তির যে পথ দেখেছিল, বর্তমানে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ছাত্র-জনতার রক্তের উপর দাঁড়িয়ে একটি বিশেষ দলের চাপে সরকার দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া তাড়াতাড়ি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। তা হতে দেওয়া হবে না।
তারা বলেন, বর্তমানে একটি দল আবারো ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ শাসনের জন্য পিআর পদ্ধতি ছাড়া তাড়াতাড়ি নির্বাচন চাচ্ছে। দেশের সম্পদ লুটপাট করার জন্য তারা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় না। তারা পিআর বোঝে না কিন্তু, চাঁদাবাজি বোঝেন। আগে গণঅভ্যুত্থানের বিচার হবে, তারপর সংস্কার, তারপরে নির্বাচন। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে, কিন্তু পিআর পদ্ধতি ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না।
এরআগে সাহেববাজার বড়মসজিদ প্রাঙ্গন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের সাহেববাজার ও মনিচত্ত্বর প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
এতে ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান মোজাহিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজশাহী মহানগরের সহসভাপতি ফয়সাল হোসেন মনি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সভাপতি আবুল বাশার, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের জেলার সভাপতি হাফেজ আবুল হাসান, ইসলামী যুব আন্দোলনের মহানগরের সভাপতি হাসিবুর রহমানসহ দলটির বিপুল সংখ্যক নেতাকমী অংশগ্রহণ করেন।