স্টাফ রিপোর্টার : চেক প্রতারণার মামলায় রাজশাহীর বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ফাতেমা খাতুন লতাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার পাওনা ২৫ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাজশাহীর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মামুনুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি ফাতেমা খাতুন লতা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে সাজা ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি ফাতেমা খাতুন লতা তাঁর নিকটাআত্মীয় নুরুজ্জামানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা ধার নেন। এর বিপরীতে তিনি একটি চেক দেন। নির্ধারিত সময়ে চেকের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় নুরুজ্জামান বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২১৩০/২০২৪।
আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। আদালত পাওনা ২৫ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি ফাতেমা খাতুন লতাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, মামলা বিচার চলাকালে ফাতেমা খাতুন লতা নিয়মিত আদালতে হাজির হননি। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া ওয়ারেন্ট থাকা অবস্থায়ও তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। পরপর ছয়টি ধার্য তারিখেও তিনি আদালতে হাজির হননি। পরে মামলার শুনানি ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাতেমা খাতুন লতার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে আরো দুটি চেক প্রতারণা মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১০ মার্চ নিলুফা ইয়াসমিনের দায়ের করা মামলায় রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ফাতেমা খাতুন লতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে দশ দিন হাজবাস শেষে আপিলের মাধ্যমে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
নিলুফা ইয়াসমিন নিলুর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শাম্মি হোসেন বলেন, ফাতেমা খাতুন লতার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়া ও চেক সংক্রান্ত একটি মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ওই মামলায় ২০ লাখ টাকা পাওনার দাবি করা হয়েছে। একই ঘটনায় নিম্ন আদালতে ১৫ লাখ টাকার আরও একটি মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি। এ মামলার বাদী মামুন হোসেন।
সোমবারের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মিস অরিন। বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মমিনুল ইসলাম।