২ কার্তিক, ১৪৩৩
১৭ অক্টোবর, ২০২৬

রাবির ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ

Admin Published: May 5, 2025, 1:04 pm
রাবির ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ

ডিএনএন ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ এনেছেন দুই শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং অশ্লীল কবিতা আবৃত্তি করতে বাধ্য করেছেন। এছাড়া অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতেও বাধ্য করা হয়েছে তাদের।


শনিবার (৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে তাদের ওপর এসব মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় মানসিক চাপ, লজ্জা ও নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে রোববার দুপুরে প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই দুই শিক্ষার্থী।


অভিযোগে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী মুকমিনুল ইসলাম চৌধুরী, গোলাম রাব্বী, মাহাবুব হোসেন, মেহেদী হাসান মিঠু, শাহ পরান ও শাহাদাত হোসেন। ভুক্তভোগীরা একই বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী।


অভিযোগকারীরা জানান, ঘটনার সময় অভিযুক্তদের সঙ্গে আরও ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। আর র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন আরও কয়েকজন। অন্যরা ভয় ও শঙ্কার কারণে অভিযোগ জানাতে আসেননি। তবে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য তারাই সাহস করে অভিযোগ দিয়েছেন।


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিভাগের ইমিডিয়েট সিনিয়র কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের সেশনের কয়েকজনকে একাডেমিক ভবনের ছাদে ডেকে নেন। সেখানে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীর সামনে টানা পাঁচ ঘণ্টা মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। আমাদের দিয়ে কুরুচিপূর্ণ শব্দ বলিয়ে, অশ্লীল কবিতা আবৃত্তি করিয়ে ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি করানো হয়। এমনকি কুকুরের মতো হয়ে যৌন অঙ্গভঙ্গিও দেখাতে বাধ্য করা হয়।’


তারা আরও জানান, এসব করতে অস্বীকৃতি জানালে বাবা-মাকে নিয়ে গালিগালাজ করা হয় এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে হেনস্তা করা হয়। যাতে কেউ প্রমাণ রাখতে না পারে, সেজন্য আমাদের মোবাইল ফোন জমা রাখতে বাধ্য করা হয়। পুরো ঘটনার কারণে আমরা মারাত্মক মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন তারা।


ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত গোলাম রাব্বী বলেন, “র‌্যাগিংয়ের মতো কিছু হয়নি। আমাদের বিভাগ একটি টুর্নামেন্টে জয়ী হওয়ায় জুনিয়রদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন ছিল। ব্যাচের অন্যদেরও জিজ্ঞেস করতে পারেন।”


অভিযুক্ত মাহাবুব হোসেন বলেন, “অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। শুধু একটি খাওয়ার আয়োজন হয়েছিল। আমাদের কাছে ছবি ও ভিডিও প্রমাণ আছে।”


অভিযুক্ত মেহেদী হাসান মিঠুও অভিযোগ অস্বীকার করেন। অভিযুক্ত মুকমিনুল ইসলাম চৌধুরীর ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং শাহাদাত হোসেন ফোন রিসিভ করেননি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। পরে সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সত্য মনে হয়েছে। আজ (সোমবার) অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।