রাবি প্রতিনিধি : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গতকাল মঙ্গলবার রাতে হামলার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘শাহবাগ বিরোধী ঐক্য’ এবং ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট’। আজ বুধবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় একই জায়গায় সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন উভয়পক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠক ও রাবি শাখা ছাত্র মিশনের সভাপতি জি এ সাব্বির বলেন, ‘দেশের স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপকারী ২০১৩ সালে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ নামে সৃষ্ট মবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ও সেই মব ইন-জাস্টিসের বিচার দাবি করে ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’র ব্যানারে রাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষার্থীবৃন্দ, রাজনৈতিক অরাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। তখন গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের ব্যানারে বাম-শাহবাগী গোষ্ঠী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় একটি মশাল মিছিল ডাকে। যখন জানতে পারি তাদের কর্মসূচি হচ্ছে না তখন বিশৃঙ্খলা এড়াতে পরিবহন চত্বরের একটি ফাঁকা জায়গায় সমবেত হই এবং আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি কিছু সময় দেরীতে শুরু করি।’
তিনি আরও জানান, ‘পরিবহন চত্বরে আসার পর ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’র বিভিন্ন সংগঠক ও নেতৃবৃন্দরা সবার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই পেছন থেকে বাম সংগঠনের গুটিকয়েকজন মশালধারী আমাদের শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার, জামায়াত-শিবির’ বলে বুলিং করে। তারা স্লোগান দিয়ে বারবার মশাল নিয়ে আমাদের দিকে তেড়ে আসে। ইচ্ছে করেই একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে ভিক্টিম কার্ড খেলার পুরোনো চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে আমাদেরকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করে। ইট গিয়ে লাগে আমাদের সহযোদ্ধা তারেকের গায়ে। এরপরই মূলত ঘটনার সূত্রপাত ঘটে।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে শান্ত করে দিয়ে আমরা যখন অন্য দিকে চলে গেছি তখন পুনরায় আমরা যে স্থানে ছিলাম সেখানে এসে আমাদের গায়ে পড়ে হাতাহাতি শুরু করেছে। একপর্যায়ে আমাদের গায়ে জলন্ত মশাল পর্যন্ত ছুঁড়ে মারে লালবাহিনীর সন্ত্রাসীরা। এতে আমাদের কয়েকজন ভাই আহত হয়। উভয়পক্ষের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি থেকে আমাদের কয়েকজন সংগঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য। এই ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলও লালবাহিনীর ফাঁদে পা দিয়ে বিবৃতি ও মিছিল করেছে। যা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার।’
অপরদিকে দুপুরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র গণমঞ্চের সভাপতি নাসিম সরকার।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে দায় মুক্তি দেওয়ার প্রতিবাদে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মশাল মিছিল ডাকে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। একই সময়ে ছাত্র শিবিরের একটি আনন্দ মিছিল পরিবহন মার্কেটে বামপন্থীদের আড্ডার স্থলকে ঘিরে বারবার প্রদক্ষিণ করতে থাকে। আমরা তাদের কর্মসূচি সমাপ্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকি। তাদের সমাবেশ শেষ হওয়ার পরে ৪৫ মিনিট পর সোয়া ৮টায় মিছিল শুরু করি। সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক নওসাজ্জামান, ছাত্র মিশনের সভাপতি জি এ সাব্বিরসহ আরও অনেকের নেতৃত্বে একটি মব আমাদের দিকে তেড়ে আসে এবং অতর্কিত ইট পাটকেল, চেয়ার ও লাঠি ছুঁড়ে মারতে শুরু করে। আমরা উত্তেজিত না হয়ে, সংঘর্ষ এড়িয়ে মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হই।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ‘পরবর্তীতে মিছিলটি নিয়ে আমরা বুদ্ধিজীবী চত্ত্বর সংলগ্ন প্যারিস রোডে পৌঁছালে আরও দুই দফা হামলা করা হয়। এ সময় আমরা প্রায় সকলেই ইট-পাটকেলের মাধ্যমে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছি। ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সরকারকে মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়ি লাথি-ঘুষি মারা হয় এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সংগঠক তারেক আশারাফকে ইটের আঘাতে রক্তাক্ত করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘চব্বিশ পরবর্তী ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কায়দায় এই ভয়াবাহ সন্ত্রাসী আক্রমণের বিচার চাইতে আমরা প্রক্টর অফিসে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি প্রক্টরিয়াল বডি চা চক্রে বসে সিসিটিভি ফুটেজ দেখছিল। এতো বড় হামলার ঘটনা ঠেকানোর তারা কোনো চেষ্টাই করেনি। পরিবহনে হামলা পরে আরও দুই দফা হামলা করা হয়। প্রক্টরিয়াল বডি তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিলে আমাদের সহযোদ্ধারা এভাবে রক্তাক্ত হত না। এ ঘটনায় আমরা নিরাপত্তা চাইলে প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। আমরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। প্রশাসন অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তবে প্রশাসনকে সন্ত্রাসীদের তাবেদার মেনে অপসারণ চাইতে বাধ্য হব।’
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির উভয়ই গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে হামলার নিন্দা জানিয়েছে।