৩ কার্তিক, ১৪৩৩
১৮ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীর দুর্গাপুরের ঐতিহাসিক কিসমত মারিয়া মসজিদ

Admin Published: July 3, 2025, 2:34 pm
রাজশাহীর দুর্গাপুরের ঐতিহাসিক কিসমত মারিয়া মসজিদ

রাকিবুল হাসান শাহীন : দৃষ্টিনন্দন মসজিদটির নির্মাণ ইতিহাস নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও এলাকাবাসীর দাবি, খ্রিস্টীয় ১৫ শতকে  মসজিদটি নির্মিত । তবে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের তথ্যমতে, এটি ১৮ শতকে নির্মিত একটি স্থাপনা। 

এ মসজিদের গম্বুজ ও নির্মাণশৈলী পুরান ঢাকার করতলব খান মসজিদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় কোনো কোনো গবেষক এটিকে ১৮ শতকে নির্মিত বলে মত দিয়েছেন। কেননা করতলব খান মসজিদটি নবাব মুরশিদ কুলি খাঁ ১৭০৩ সালে নির্মাণ করেছিলেন। অন্যদিকে চুন-সুরকি ও ইটের ব্যবহার দেখে এটি মোগল আমলে নির্মিত স্থাপত্যকর্ম বলেও ধারণা হয়। তিনটি গম্বুজ ও চারটি মিনার আকৃতির পিলারবিশিষ্ট এ মসজিদের দেয়ালে অসাধারণ শৈল্পিক কারুকাজের চিহ্ন পাওয়া যায়।


 মসজিদটির ক্ষয়ে যাওয়া দেয়ালে এখনো কিছু শৈল্পিক কর্ম বিদ্যমান। এতে আছে মুসলিম ঐতিহ্য অনুসারে শিল্পীদের করা পোড়ামাটির টেরাকোটা, যা গাছ-ফুল-লতা ইত্যাদি ধারণ করেছে। অবশিষ্ট কারুকাজ দেখে মসজিদের হারানো সৌন্দর্য সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।


মসজিদটির তিনটি প্রবেশদ্বার আছে। প্রত্যেকটি দ্বারের ঠিক সমান্তরালে ওপরে ছাদের মাঝামাঝি একটি করে গম্বুজ আছে। সামনে লাগোয়াভাবে ছোট্ট উঁচু খোলা বারান্দা আছে, যা অনুচ্চ প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত এবং একটি তিন ধাপী ছোট সিঁড়ি দ্বারা ভূমিতে সংযুক্ত। 


কিসমত মারিয়া মসজিদের দক্ষিণে একটি দ্বিতল চৌচালা স্থাপনা আছে, যা বিবির ঘর বলে পরিচিত। ধারণা করা হয়, মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কোনো নারী নিজের ইবাদত, বন্দেগি ও সাধনার জন্য মূল মসজিদে সামান্য তফাতে থাকা ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন। 


 জনশ্রুতি মতে, কিসমত মারিয়া দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিলো। পরবর্তী স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্যোগে সেখানে আজান ও নামাজের ব্যবস্থা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতর সংস্কার করে এটি রক্ষণাবেক্ষণ করছে। এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়। সংস্কারের ফলে ঐতিহাসিক মসজিদ তার হারানো সৌন্দর্যের অনেকটাই ফিরে পেয়েছে। 


মসজিদের অবস্থান ফসলের মাঠ ও নির্জন আমবাগানে হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের মিথ চালু আছে। 


যেমন—মসজিদটি জিনের তৈরি, মসজিদ পরিত্যক্ত অবস্থায় জিনরা সাপের বেশে তাতে অবস্থান করত ইত্যাদি। বিস্ময়ের বিষয় হলো, দেশের প্রায় সব প্রাচীন মসজিদের পাশে পুকুর বা দিঘী থাকলেও এ মসজিদের সন্নিকটে বড় কোনো জলাধার দিঘী বা পুকুর চোখে পড়ে না। 


রাজশাহী সদর হতে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক ধরে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিবপুর বাজার থেকে সহজেই ঐতিহাসিক এই মসজিদে যাওয়া যাবে। তবে অতিক্রম করতে হবে চার কিলোমিটার পথ। 


স্থানীয়রা মনে করে, স্থানীয় প্রশাসন আন্তরিক হলে মারিয়া মসজিদ কেন্দ্র করে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে।