স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. অ.ন.ম বজলুর রশীদ বলেছেন, রাজশাহীতে আর কোনো পুকুর ভরাট হতে দেওয়া হবে না। বুধবার বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় ও স্মারকলিপি গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, একসময় রাজশাহী ছিল পুকুরের শহর, কিন্তু বর্তমানে অনেক পুকুর দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে কাজ শুরু করেছি। একটি ভরাট পুকুর পুনঃখননের কাজও শুরু করা হয়েছে। আমাদের পরিষ্কার সিদ্ধান্ত, রাজশাহীতে আর কোনো পুকুর ভরাট করা যাবে না। যেগুলো ইতোমধ্যেই ভরাট হয়ে গেছে, নির্বাচনের পর সেগুলো নিয়েও আমরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করবো।
রাজশাহীর যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহরের চলমান উন্নয়নকাজের কারণে সাময়িকভাবে মানুষের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা কাজগুলোকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছি। একাধিক কাজ একসঙ্গে শুরু না করে একটি কাজ শেষ করার পর অন্যটিতে হাত দিলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে। এরই মধ্যে আমি প্রেকৌশলীদের সাথে আজকে এই বিষয়ে সভা করবো। এবং তাদের নির্দেশনা দিবো।
তিনি আরও জানান, নগরীর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ায় তিনি সিটি কর্পোরেশনকে ক্ষতিপূরণস্বরূপ গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমি বলেছি, আপনাদের কারণে অনেক কিছু নষ্ট হয়েছে তা আপনারা ফিরিয়ে দেবেন। ৫০ মিটার ফুলের গাছ দেবেন, এরপর ৫০ মিটার বড় গাছ দেবেন।
তিনি আরো বলেন, পদ্মা নদী, শিব নদী, বারন নদী, হুজা নদী, মালঞ্চ নদী, বড়াল নদী, নারদ নদীসহ রাজশাহী অঞ্চলের বহু নদী দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। আমার বিশ্বাস, আপনারা সহযোগিতা করলে আমরা এসব নদী উদ্ধার করতে পারব। সারাদেশে নদী দখল ও দূষণ রোধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পনি সম্পদ উপদেষ্টা মহোদয়ের নেতৃত্বে আমরা আট বিভাগে মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ নদী চিহ্নিত করেছি। যার মধ্যে রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ৪টি নদী। এরমধ্যে রাজশাহী নগরী উপকন্ঠা বারনয় নদীও আছে।
তিনি জানান, আমরা ইতোমধ্যে ডিপিপি জমা দিয়েছি। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই চার বিভাগে একই সময়ে নদী দখলদূষণমুক্ত করার অভিযান শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ড্রেজিং কাজও চলবে।