স্টাফ রিপোর্টার : আজ রবিবার রাত পোহালেই সোমবার পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ। তাই বাংলা নববর্ষকে বরণের আয়োজন এখন শেষ পর্যায়ে। শহরের গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহীর গ্রামে গ্রামে শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। পুরনো ঐতিহ্য রক্ষায় জেলার বিভিন্ন গ্রাম পর্যায়ে নববর্ষ পালনের প্রস্তুতি চলছে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসনও এবার সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু, সুন্দর, জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে সোমবার সকাল সাতটায় রাজশাহী সিএন্ডবি মোড় থেকে শিশু একাডেমি পর্যন্ত আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে সাতটায় শিশু একাডেমিতে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গান পরিবেশন করা হবে। সকাল পৌঁনে আটটায় একই স্থানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা এবং দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
সুবিধাজনক সময়ে শিশু একাডেমিতে রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, সকল হাসপাতাল, শিশু পরিবার ও শিশু সদনে উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হবে। শিশু পরিবারের শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কারাবন্দীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। সুবিধাজনক সময়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্ব স্ব ব্যবস্থাপনায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপন করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর ও রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রবেশমূল্য ছাড়া দর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। রাজশাহী আঞ্চলিক তথ্য অফিস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিকে বাংলা বছরের প্রথম দিনকে স্বাগত জানাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদে এবার প্রস্তুতি চলছে ঢিলেঢালা। অন্যান্যবার তিনদিনের আয়োজন থাকলেও এবার দিনব্যাপী আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ।
শনিবার বিকেলে রাবির চারুকলায় গিয়ে দেকা যায় শিক্ষার্থীরা কেউ ব্যস্ত শখের হাড়ির ভাস্কর্য বানাতে আবার বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে রং তুলিতে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টায় কেউ ব্যস্ত ঝাঁপি রাঙাতে, কেউ কেউ বানাচ্ছে লাঙল । আবার কেউ কেউ ২৪ শের চেতনাকে ধারণ করে ২৪ ফুট লম্বা কলম বানাচ্ছেন। চারুকলা অনুষদ চত্বরে নবীন আঁকিয়েরা গভীর মনোযোগে জলরঙের ছবি আঁকছেন। মাঠজুড়ে বিরাজ করছে বাঁশের ফালি দিয়ে শখের হাঁড়ি ও পালকি তৈরির ব্যস্ততা। আবার কেউ কেউ মধ্যপ্রাচ্যের মানবতার বিপর্যয়কে প্রতীকী করে শলাকা দিয়ে মিসাইল বোমা ও ড্রোন প্লেন বানিয়েছেন।
ব্যস্ত চারুকলা শিক্ষার্থীরা জানান, এই আয়োজনে থাকছে একটি খাতাও যেখানে ২৪ শের গণঅভ্যুত্থান ও ফিলিস্তিন যুদ্ধ নিয়ে লিখা হবে। এভাবেই চলছে নববর্ষের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের গণহত্যা দুটি বিষয়কে প্রতীক হিসেবে ধারণ করে এবারের শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলছে।
রাবির চারুকলার মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, এবারের আয়োজনে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী চব্বিশের প্রতিফলন থাকছে, যা এবারের বৈশাখে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যেমন মুগ্ধকে স্মরণ করে পানির বোতল থাকছে, ২৪শের চেতনায় ২৪ ফুট কলম থাকছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের মানবতার বিপর্যয়ও তুলে ধরা হবে। বিমান থাকছে। আয়োজনে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ২৪ শের কিছু স্লোগান ও। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হবে। প্রথমে উদ্বোধনী গানের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ আয়োজন শুরু হবে, দুটো গানের পর নাচ। তারপর উপাচার্য র্যালী উদ্বোধন করবেন। শেষে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে, চলবে সন্ধ্যার পর্যন্ত । বিগত বছরে তিনদিন ব্যপী অনুষ্ঠান হলেও এ বছর সীমিত করা হয়েছে। একদিনই আয়োজন হবে।
চারুকলার এ শিক্ষক জানান, এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও আনন্দ শোভাযাত্রা হচ্ছে। আমরা জানি মঙ্গল ও আনন্দ নিয়ে অনেক রাজনীতিকরণ হয়, আমরা রাজশাহী চারুকলা বিভাগ সব ধরনের পক্ষের বাইরে থেকে এ কাজ করার চেষ্টা করছি। আশা করি আমাদের আয়োজনে কোনো পক্ষ আহত হবে না । তাছাড়া অতীতেও আনন্দ শোভাযাত্রা হতো।
রাবির চারুকলা অনুষদের ডীন মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজন থাকছে। এবারও শোভাযাত্রা হবে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। তবে আমাদের সকল শিক্ষার্থীরা এখনো এসে পৌছায় নি। এটা তো শিক্ষার্থীদের আয়োজন। তাই আয়োজন কিছুটা সীমিত।
নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ আয়োজন আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক আয়োজন। এটা সমগ্র বাঙালি জাতির উৎসব। তাই আশা করছি তেমন অপ্রীতিকর কোনো বিষয় হবে না। আয়োজন রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ীই হবে।
এছাড়াও রাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পুরোদমে বৈশাখী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। ব্যানার ফেস্টুন, কার্টুন তৈরিতে শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আয়োজনে থাকছে শোভাযাত্রা এরপর দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
চৈত্রের শেষদিন আজ। প্রকৃতিতে এখন প্রখর রোদের তপ্ত দহন। নদী-নালা, খাল-বিল প্রায় শুকনো। এরইমধ্যে বাংলা নববর্ষ-পয়লা বৈশাখ। রাত পোহালেই শুরু হবে বাঙালির ঐতিহ্যের বৈশাখী মেলা। এরইমধ্যে ব্যপক প্রস্তুতি চলছে রাজশাহী কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।