৩ কার্তিক, ১৪৩৩
১৮ অক্টোবর, ২০২৬

রামিসার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাক ৯০ বছরের দাদা

Admin Published: May 21, 2026, 2:53 pm
রামিসার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাক ৯০ বছরের দাদা

ডিএনএন ডেস্ক: ধর্ষণের পর হত্যার শিকার শিশু রামিসাকে দাফন করা হয়েছে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় পারিবারিক কবরস্থানে। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ৯০ বছর বয়সী মজিবর রহমান মোল্লা। তিনি রামিসার চাচাতো দাদা। চোখেমুখে তার অসহায়ত্ব। বুকভাঙা কষ্টে যেন বাকরুদ্ধ। বুধবার রাতে এখানে দাফন করা হয়েছে ৮ বছরের রামিসাকে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা গেল, কবরের মাটি এখনো ভেজা। মাঝে লাগানো সূর্যমুখী ফুলগাছ নুইয়ে আছে মাথা। চারপাশে নীরবতা।


ছোট্ট মেয়েটির জানাজায় গতকাল অংশ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দাফনের পর রামিসার বাবা-মা ঢাকায় ফিরে গেলেও মজিবর রহমান ঘুরেফিরে এসে দাঁড়াচ্ছেন নাতনির কবরের পাশে।


রামিসার চাচাতো ভাই রানা মোল্লা জানালেন, পরিবারটি স্থায়ীভাবে গ্রামে বসবাস করত না। রামিসার বাবা ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ঈদ বা বিভিন্ন ছুটিতে তারা গ্রামে আসতেন।


রানার বর্ণনায় রামিসা ছিল খুবই প্রাণবন্ত। গ্রামে এলেই সবার সঙ্গে মিলে পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখত। এমন একটি নিষ্পাপ শিশুকে যেভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে, তা মেনে নেওয়া কঠিন, বললেন তিনি।


তার দাবি, এ ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে প্রকাশ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাতেই ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস পাবে না।


এদিকে রামিসা হত্যার প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচারের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন। বৃহস্পতিবার বিকালে বিক্ষোভ মিছিল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী সিরাজদিখান উপজেলা শাখা। এদিন বিকাল ৫টায় জাতীয় পরিবেশ ও মানবাধিকার সংস্থা সিরাজদিখান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় করবে মানববন্ধন।


পরিবার জানায়, দুই বোনের মধ্যে রামিসাই ছিল ছোট। তার আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষোভ ও বিচার দাবির সুর।


স্থানীয়দের দাবি, এমন ভয়াবহ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।