রাকিবুল হোসেন শাহীন : লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে দাম ভালো পাওয়াই ফুটেছে কৃষকের মুখে হাসি। রাজশাহীর দুর্গাপুরে অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ আর আধুনিক চাষ পদ্ধতির ফলে এ বছর উপজেলায় লাউ চাষে তৈরি হয়েছে নতুন রেকর্ড। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব লাউ যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে। প্রতিদিন উপজেলার অন্তত ২০–২৫টি স্থানে রাস্তার মোড়ে মোড়ে চলছে লাউ কেনাবেচা। ব্যবসায়ীরা জমি থেকেই লাউ কিনে ট্রাকে তুলে নিচ্ছেন। প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। কৃষকেরা বলছেন, এবার দামও ভালো, ফলে তাঁরা খুশি। উপজেলার কলনটিয়া, জয়নগর, বাজুখলসী, চুনিয়াপাড়া, কানপাড়া, পানানগর ও শালঘরিয়া এলাকায় বেশি চাষ হয়েছে। দুর্গাপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার রেকর্ড ৩২০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। কলনটিয়া গ্রামের কৃষক মামুনুর রশীদ জানান, দেড় বিঘা জমিতে মাচায় লাউ চাষে খরচ হয়েছে ২০–২২ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ৮০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। তাঁর ধারণা, সব মিলিয়ে ১ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি হবে। দুর্গাপুর এলাকার গোড়খাই গ্রামের কৃষক ইউনুস মোল্লা বলেন, লাউ চাষ লাভজনক। তবে আগাম লাগাতে হয়। এখন দাম ভালো, কৃষক মাঠেই বিক্রি করছেন। বাজারে যেতে হয় না।’
সিরাজগঞ্জ থেকে এসে লাউ কিনছিলেন পাইকার কেরামত আলী। তিনি বলেন, রাজশাহীর লাউ সুস্বাদু। বাইরের জেলায় এর চাহিদাও বেশি। প্রতিদিন দুর্গাপুরের বিভিন্ন মোড় থেকে লাউ কিনে ট্রাকে ঢাকা ও সিলেটে পাঠাই। উপজেলা কৃষি অফিসার সাহারা শারমিন লাবনী বলেন, প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার পথে রাস্তার মোড়গুলোতে লাউয়ের পসরা চোখে পড়ে। কৃষকেরা জমি থেকে লাউ বিক্রি করছেন। এতে তাঁদের পরিবহন খরচও বেঁচে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘আলু-পেঁয়াজ তোলার পর জমি ফাঁকা না রেখে কৃষকেরা এখন লাউ চাষ করছেন। পরিশ্রম কম, লাভ বেশি। আর দেশের নানা জায়গায় এই লাউ সরবরাহ হচ্ছে।