ডিএনএন ডেস্ক: রাজধানীর বাজারে বেড়েছে আমদানি করা বিভিন্ন ফলের দাম। বর্তমানে এক কেজি কমলা বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৫৫০ টাকা এবং মাল্টা ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। বছরের এ সময়ে দেশে কমলার মৌসুম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম কমছে না।রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার ফল ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
খুচরা বাজারে কমলা ৫৫০ টাকা, মাল্টা ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, আপেল ৩৮০ টাকা, আঙুর ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা, নাশপাতি ৩০০ টাকা এবং ডালিম ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি ড্রাগন ফল ১৮০ টাকা, কলা ১২০ থেকে ১৫০ টাকা এবং পেঁপে ও তরমুজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সুপারশপে ফলের দাম আরও বেশি। সেখানে সবুজ আপেল ৫১০ টাকা, গালা আপেল ৪৫৫ টাকা, মাল্টা ৫১৫ টাকা, কমলা ৬৬৮ টাকা এবং নাশপাতি ৩৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘আমলযোগ্য’, তাই অনুসন্ধান: দুদক সচিব
দেশে কমলার মৌসুম সাধারণত শরৎ থেকে শীতের শুরু পর্যন্ত। মৌলভীবাজারের জুড়ীতে স্থানীয় জাতের কমলার ভরা মৌসুম অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি। রাঙামাটির নানিয়ারচরেও নভেম্বরের শুরুতে কমলা পাকতে শুরু করে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত গাছে থাকে। ফলে অক্টোবর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কমলা বাজারে আসার কথ
তবে স্থানীয় উৎপাদন দেশের মোট চাহিদা পূরণ করতে না পারায় কমলার বাজার অনেকটাই আমদানিনির্ভর। বর্তমানে আমদানিকৃত ফলের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
মাল্টার দাম বাড়ার কারণ হিসেবে সরবরাহ ঘাটতির কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের বৈঠকে তারা জানান, স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টা প্রয়োজন। অথচ কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে এসেছে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার।
ব্যবসায়ীদের মতে, সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক আমদানিকারক মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণেও তাদের আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে।
মাল্টার আমদানি মূল্য ও খুচরা দামের ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিশর থেকে আমদানি করা মাল্টার প্রতি কেজির গড় আমদানি মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা হলেও রাজধানীর খুচরা বাজারে তা ৫২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
এ বিষয়ে আমদানিমূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনার পরও খুচরা দাম এত বেশি হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গত ৩ অক্টোবর সচিবালয়ে ফলের সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না জানিয়ে আমদানি করা মাল্টার অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নিতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন তিনি।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ফল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কসহ মোট করভার অনেক ক্ষেত্রে ৯৬ দশমিক ১০ থেকে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত দাঁড়ায়। ফলে আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর, জাহাজ ভাড়া, বন্দর খরচ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও পচনজনিত ক্ষতিসহ বিভিন্ন ব্যয় যোগ হয়ে খুচরা বাজারে দাম বাড়ে।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের পর মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো এবং দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে কয়েক মাসের ব্যবধানে কমলা ও মাল্টার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কারওয়ান বাজারে কমলা ১৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং মাল্টা ২২০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। এখন কমলার সর্বোচ্চ দাম ৫৫০ টাকা এবং মাল্টার ৪৫০ টাকা। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির তুলনায় কমলার সর্বোচ্চ দাম কেজিতে ২০০ টাকা এবং মাল্টার ১৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
খিলগাঁওয়ের খুচরা ফল ব্যবসায়ী করিম মোল্লা বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজিতে বড়জোর ১০ থেকে ১৫ টাকা লাভ করেন। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় কয়েক দিন ধরে তিনি কমলা আনছেন না। দাম কমলে আবার বিক্রি শুরু করবেন।
ক্রেতা শাওন বলেন, কমলার কেজি ৫৫০ টাকা, মাল্টাও ৪৫০ টাকা। শিশুদের পছন্দের এসব ফল এভাবে দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জন্য কেনা কঠিন হয়ে পড়বে।