২ কার্তিক, ১৪৩৩
১৭ অক্টোবর, ২০২৬

‘পাশবিক’ নির্যাতনে ভ্যানচালক ফারুকের মৃত্যুর ঘটনায় স্মারকলিপি, ৫ দফা দাবি

Admin Published: December 28, 2025, 6:57 pm
‘পাশবিক’ নির্যাতনে ভ্যানচালক ফারুকের মৃত্যুর ঘটনায় স্মারকলিপি, ৫ দফা দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বাগমারায় ভ্যানচালক ওমর ফারুককে (৩৮) ‘চুরির মিথ্যা অপবাদে’ পাশবিক নির্যাতনের পর মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। ‘ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জ (ইয়াস)’ এবং ‘ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়’ নামের দুটি সামজিক ও সাংস্কৃতিক সংঘঠনের ব্যানারে রবিবার রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে ভ্যানচালক ওমর ফারুকের মৃত্যুকে ‘বিচারকি হত্যাকান্ড’ বলে দাবি করা হয়। স্মারকলিপির অনুলিপি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি এবং রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবরও প্রদান করা হয়।

ইয়াস’র সভাপতি, লেখক ও উন্নয়নকর্মী মো. শামীউল আলীম শাওন এবং ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়ের সাধারণ সম্পাদক মো. রবিন শেখ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১৭ ডিসেম্বর বাগমারার ভবানীগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে একদল দুর্বৃত্ত ফারুকের দুই হাত ও দুই পায়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ২ ইঞ্চির অন্তত ৮-১০টি লোহার পেরেক গেঁথে দেয়। ফারুক পানি চাইলে তাকে নদীতে চুবিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। এমনকি পায়ুপথে মরিচের গুঁড়া ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো আদিম নিষ্ঠুরতা চালানো হয়। এই পৈশাচিক চিত্রটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মানবাধিকার ব্যবস্থার ওপর চরম কুঠারাঘাত।

প্রশাসনের ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ দায় ও ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করা হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকারীরা উল্লেখ করেন, ‘যখন এই নির্যাতন চলছিল, তখন স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা ছিল রহস্যজনকভাবে নীরব। মুমূর্ষু ও রক্তাক্ত ফারুককে হাসপাতালে নিয়ে জীবন বাঁচানোর বদলে বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়ার মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৭ দিনের সাজা প্রদান এই হত্যাকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করেছে। তারা বলেন ‘চিকিৎসার বদলে সাজা প্রদান, এটি একটি পরিকল্পিত ‘বিচারিক হত্যাকাণ্ড’।

স্মারকলিপিতে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার, অভিযুক্ত রেজাউল করিম ও আব্দুল মতিনসহ জড়িতদের দ্রুততম বিচার, মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসা না দিয়ে সাজা প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত ও ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রগণ এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ ৫ দফা দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক আফিয়া আকতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ ডিসেম্বর পাশবিক নির্যাতনের পর ভ্যানচালক ফারুকের অবস্থা সংকটাপূর্ন হলে আসামীরা গাঁজার নাটক সাজিয়ে বাগমারা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) সংবাদ দিলে তিনিও ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং  সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

পরবর্তীতে পুলিশ দণ্ড পাওয়া ওমর ফারুককে  বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী কারাগারে পাঠায়। সেখানে অসুস্থ হলে পরের দিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসায় থাকা অবস্থায় গত ২০ ডিসেম্বর মারা যান। এ ঘটনায় সামলা দায়ের  করা হয়েছে। মামলায় বাদী দাবি করেছেন নির্মম নির্যাতনের কারণে ফারুকের মৃত্যু হয়েছে।