ডিএনএন ডেস্ক: চ্যাম্পিয়নস লিগ, লা লিগাতে ছিল বার্সেলোনার জয়জয়কার। টানা ১১ ম্যাচজয়ী বার্সার সামনে এবার বাদ সাধল প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। চ্যাম্পিয়নস লীগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা গত রাতে হেসেখেলে হারাল বার্সাকে। পার্ক দে প্রিন্সেসে গত রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ম্যাচে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে পিএসজি।দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল হান্সি ফ্লিকের দল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ দিকে আরো দুই গোল করে প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে ৪-২ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। এতে থেমেছে বার্সেলোনার দুর্দান্ত ছুটে চলা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর মৌসুমে প্রথম হারের মুখ দেখল কাতালানরা।
চলতি মৌসুমের শুরুটা দারুণ ছন্দে কাটছিল বার্সেলোনার। সেই ছন্দ থামল প্যারিসে এসে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে পিএসজি। বার্সেলোনার রক্ষণে অগোছালো ভাবের সুযোগ নিয়ে প্রথম কয়েক মিনিটেই গোলের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল স্বাগতিকেরা। খিচা কাভারাস্কেইয়ার জোরালো শট ঠেকাতে ডাইভ দিয়েছিলেন হোয়ান গার্সিয়া। গোলরক্ষককে ফাঁকি দিলেও বলটি লাগে পোস্টে।
ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। অ্যান্থনি গর্ডন ও পেদ্রি গোলের সুযোগ তৈরি করেন। দানি ওলমোর জোরালো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে প্রথমার্ধেই দুই দলকে হারাতে হয় গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে। পায়ের পেছনের পেশিতে চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন পিএসজির উসমান দেম্বেলে। এরপর উঠে যান বার্সেলোনার ওলমোও। দেম্বেলের বদলি হিসেবে নেমে ফেরান তোরেস দুটি সুযোগ পেয়েছিলেন। দুবারই তাঁকে আটকে দেন গার্সিয়া।
ওলমোর জায়গায় নামা ফেরমিন লোপেজও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন। একবার প্রায় একা পেয়ে গিয়েছিলেন পিএসজি গোলরক্ষক মাতভে সাফোনভকে। কিন্তু চিপ করে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ। অচলাবস্থা ভাঙে ৩৮ মিনিটে। লামিন ইয়ামালের পাস মাঝপথে আটকে পিএসজি বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গার্সিয়াকে ফাঁকি দেন দেজিরে দুয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে ফেরে বার্সেলোনা। কিন্তু ৫০ মিনিটে আবারও গোল বসেছিল তারা। কপাল ভালো তাদের, আশরাফ হাকিমি গোলরক্ষককে একা পেয়েও জালে বল পাঠাতে পারেননি।
দারুণ সেভে বার্সাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন গোলরক্ষক গার্সিয়া। এরপর সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। আর সেই গোলের নায়ক এমন একজন, যাঁর নাম হয়তো ম্যাচ শুরুর আগে খুব বেশি আলোচনায় ছিল না। ফেরমিন লোপেজের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে বক্সে ঢুকে পড়েন তরুণ জাভি এসপার্ত। পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনভকে ফাঁকি দিয়ে করেন চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর প্রথম গোল। তবে গোল হজমের পর পিএসজির দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় মার্কিনিওস ও কাভারাস্কেইয়াকে। ওদিকে বার্সেলোনা কোচ ফ্লিক একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন। মাঠে নামান গাভি, রদ্রি ও কারিম আদেয়েমিকে। নামার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গাভির শট আটকে যায়।
৭০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। কাছ থেকে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন ফেরান তোরেস, কিন্তু তাঁর শট লাগে পোস্টে। শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম হয় পিএসজি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে দলকে এগিয়ে দেন লুকাস এরনান্দেস। বাতাসে গর্ডনকে হারিয়ে তাঁর হেড ঠেকাতে পারেননি গার্সিয়া। স্কোরলাইন তখন ২-১। ৭৯ মিনিটে আবারও ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে আসা ইয়ামাল বদলি খেলোয়াড় ওয়ারেন জাইরে-এমেরিকে কাটিয়ে বুটের বাইরের অংশ দিয়ে বল তুলে দেন। সাফোনভের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ালে ২-২ সমতায় ফেরে কাতালানরা।
তবে বার্সেলোনার সমতা ধরে রাখার স্বস্তি মিলিয়ে যায় দ্রুতই। কিছুক্ষণ পর বক্সের বাইরে থেকে আসা বল বুকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত শটে জালে পাঠান ভিতিনিয়া। আবারও এগিয়ে যায় পিএসজি, স্কোরলাইন ৩-২। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আর হাতছাড়া করেনি স্বাগতিকরা। ডান দিক দিয়ে হাকিমির একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে বার্সেলোনার রক্ষণ। তাঁর বাড়ানো বলে ফাঁকা জায়গায় পেয়ে সহজ টোকায় গোল করেন ফাবিয়ান রুইস।