২ কার্তিক, ১৪৩৩
১৭ অক্টোবর, ২০২৬

রাজশাহীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর দাবিতে স্মারকলিপি

Admin Published: March 29, 2026, 5:49 pm
রাজশাহীর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর দাবিতে স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোটর্চার : রাজশাহীতে শিশুমৃত্যুরোধ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতে অবিলম্বে বিশেষায়িত রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু ও অতি সংক্রমক রোগ ‘হাম’ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একইসাথে ‘স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠনসহ ৫ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাজশাহী সিভিল সার্জন বরাবর পৃথক স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

রবিবার বরেন্দ্র অঞ্চলের যুব ও উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহের বৃহৎ ঐক্য বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের পক্ষ থেকে বেলা এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। রাজশাহীর সিভিল সার্জন এর পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোসা. মাহবুবা খাতুন।


স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার, পরিচালক (স্বাস্থ্য), রাজশাহী, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় এর উপপরিচালক, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর পরিচালক বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।


এসময় উপস্থিত ছিলেন নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক, সাধারন সম্পাদক পলি রানী, পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পাদক তামিম তুলি, সামাজিক কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সম্রাট রায়হান, আমার বাংলা তরুণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ জাকি, নারী নেত্রী তহুরা খাতুন লিলিসহ প্রমুখ।


স্মারকলিপিতে বলা হয়, চিকিৎসা অন্যতম একটি মৌলিক অধিকার। কিন্তু তারপরেও দেশব্যাপী সহজলভ্য ও সুচিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত প্রচুর মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। এভাবে শিশুরাও অকালে প্রাণ হারাচ্ছে। আইসিইউ সেবার অপ্রতুলতার কারনে বিগত ১১ মার্চ থেকে ২২ মার্চ এর মধ্যে গত ১১ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ এর অপেক্ষায় থাকা ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আইসিইউ সেবা পেলে এই শিশুগুলো বেঁচেও যেতে পারত।


চিকিৎসার নগরীখ্যাত রাজশাহীতে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় রোগীর হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতা থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখে ও মাথায় প্রদাহসহ বিভিন্ন রোগে শিশুরা আক্রান্ত হয় ও মৃত্যুঝুঁকি তৈরী হয়। এই অবস্থায় বাচ্চাদের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়।


একদিকে আইসিইউ এর অভাবে শিশুর মৃত্যু হচ্ছে অপরদিকে রাজশাহীতে শিশুদের জন্য নির্মিত ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর অভাবে অযত্ন অবহেলায় পড়ে রয়েছে। রাজশাহী নগরীর টিবি পুকুর এলাকায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যেই হাসপাতালের সম্পূর্ন কাজ শেষ হয়। কিন্ত অদৃশ্য কারণে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে না। শিশুরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অকাল মৃত্যুর শিকার হচ্ছে।


স্মারকলিপিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার একটি স্বাধীন স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং ৫ মে ২০২৫ তারিখে এই কমিশন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে প্রাথমিক সেবা শক্তিশালীকরণ, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ; রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সন্তুষ্টি, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন চিকিৎসা শিক্ষা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর সেবার মাধ্যমে দেশে বিশ্বস্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলার রূপরেখা শীর্ষক প্রতিবেদন প্রদান করেছে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে সর্বমোট ৪০০ এর বেশী সুপারিশ প্রদান করেছে এবং বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ৩৩টি সুপারিশকে আশু বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।


স্মারকলিপির দাবিসমূহ হলো- রাজশাহীর বিশেষায়িত ২০০ শয্যার ‘রাজশাহী শিশু হাসপাতালটিতে’ অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে হবে; রাজশাহীসহ দেশব্যাপী অতি সংক্রমক রোগ হাম এর বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অসুস্থ্যদের সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে; রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হবে। সকল অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা যেমন- চিকিৎসকের অবহেলা-অনুপস্থিতি, দালালের দৌরাত্ম, রোগীদের ভোগান্তি নিরসন করতে হবে; রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন করতে হবে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্তকরণসহ আইসিইউ কমপ্লেক্স এর অনুমোদন ও হাসপাতালে ভর্তী রোগীর ১০ শতাংশের জন্য আইসিইউ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে; একটি ‘স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন’ গঠন করাসহ ‘স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন’ এর সুপারিশসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে।