৩ কার্তিক, ১৪৩৩
১৮ অক্টোবর, ২০২৬

সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমাচ্ছে সরকার

Admin Published: August 13, 2026, 5:35 pm
সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা কমাচ্ছে সরকার

ডিএনএন ডেস্ক: দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিতে কঠোর হচ্ছে সরকার। আগে অনুমোদন দেওয়া রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে কমানো বা সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।এ জন্য রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করেছে, সেই তথ্য আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।



মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় আগে দেওয়া রপ্তানি অনুমোদনের পরিমাণ হ্রাস বা সমন্বয় করা প্রয়োজন। এ জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।


মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুমতি পাওয়ার পরও নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারেনি—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে। যারা আংশিক রপ্তানি করেছে, তাদের ক্ষেত্রেও অব্যবহৃত কোটা বহাল রাখার যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে।


এর আগে গত ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।


খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টি—মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।


 

তবে ২ আগস্টের বৈঠকে জানানো হয়, অনুমতি পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রপ্তানি করতে পারেনি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আবার আংশিক রপ্তানি করেছে।


এতে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এসব তথ্য যাচাইয়ের পর রপ্তানি কোটা কমানো বা সমন্বয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


এদিকে বাজারে সুগন্ধি চালের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির জন্য বড় মিলমালিকদের মজুতকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। তাদের দাবি, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিলমালিকের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুত রয়েছে। বাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব চাল সরবরাহ না করায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে এবং দাম বাড়ছে।


এ পরিস্থিতিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সঙ্গে নিয়ে বাজার মনিটরিং জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।