স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা বসিয়ে ভিডিও ধারণের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে উন্নয়ন গবেষণাধর্মী যুব সংগঠন ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) ও সংস্কৃতিক সংগঠন ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়। অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. রায়হান কবির ইমনের এই অপরাধকে কেবল 'বিকৃতি' নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইন ও মানবাধিকারের চরম অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেছেন রাজশাহীর যুব সংগঠন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দুটির সংগঠকরা।
সোমবার (২৬ জানুয়ারী) এক যৌথ বিবৃতিতে ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)-এর সভাপতি লেখক এবং অধিকার ও উন্নয়নকর্মী (শ্রেষ্ঠ যুব সম্মাননাপ্রাপ্ত) মো. শামীউল আলীম শাওন এবং ভঙ্গী নৃত্য শিল্পালয়-এর সাধারণ সম্পাদক নৃত্যশিল্পী, সংগঠক ও সাংস্কৃতিককর্মী মোঃ রবিন শেখ বলেন, রক্ষক যখন ভক্ষক হয়ে সহকর্মীদের সম্ভ্রম হরণ করে, তখন কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বলে আর কিছু থাকে না। এই ঘটনা সংবিধানের ৪৩(খ) অনুচ্ছেদ, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ২০০৯ সালের উচ্চ আদালতের যৌন হয়রানি বিরোধী নির্দেশনার স্পষ্ট লঙ্ঘন।
নেতৃবৃন্দ দাবি জানান, কেবল ইমন নয়, এই পৈশাচিক কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তাকারীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। হাসপাতালের মতো জায়গায় এমন ঘটনা প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা; তাই দায়িত্বে অবহেলাকারীদেরও বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। অবিলম্বে বিএমডিসি থেকে ইমনের নিবন্ধন বাতিলসহ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল স্থানে নিয়মিত 'ডিভাইস সুইপিং' করার প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করতে হবে। তারা হুঁশিয়ারি দেন, এই অপরাধের কঠোর বিচার না হওয়া মানে ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো অপরাধকে আমন্ত্রণ জানানো।