ডিএনএন ডেস্ক: ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড লটারি বা ডিভি লটারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন আদালত। যেসব দেশ থেকে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী যাওয়ার সুযোগ পান, সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য এ সিদ্ধান্তকে সুখবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু থাকতে পারে। তবে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত ও আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান মামলাটি করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত কর্মসূচিটি আটকে রেখেছে। এতে আবেদনকারীদের পাশাপাশি লটারি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়।
ডিভি লটারি সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত। এ কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী পাঠায়, এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়া হয়। নির্বাচিত হলে আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পান।
অন্যান্য অনেক কর্মভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মতো এ লটারিতে অংশ নিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন হয় না। তবে লটারিতে নাম উঠলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। নির্বাচিত আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়।
আবেদনের জন্য সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন হতে পারে।
১৯৯০ সালের ‘ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’-এ স্বাক্ষরের মাধ্যমে এ কর্মসূচির সূচনা করেন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ। ১৯৬৫ সালের পরবর্তী অভিবাসনব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের অভিবাসীদের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য তৈরি হয়েছিল, মূলত তা দূর করতেই কর্মসূচিটি চালু করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল পরিবার কিংবা পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে অভিবাসনের সুযোগের বাইরে থাকা অনগ্রসর ও কম প্রতিনিধিত্বশীল জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।
এ কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ করা ভিসার সংখ্যার মধ্যে মূল আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত থাকে।