৬ কার্তিক, ১৪৩৩
২২ অক্টোবর, ২০২৬

আখচাষি হিসেবে প্রণোদনা নিয়ে সমালোচনায় এমপি চাঁদ

Admin Published: October 21, 2026, 10:17 pm
আখচাষি হিসেবে প্রণোদনা নিয়ে সমালোচনায় এমপি চাঁদ

ডিএনএন ডেস্ক: আখচাষিদের সরকারি সাড়ে ১২ হাজার টাকা প্রণোদনার চেক নিয়েছেন রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে জনসভার প্রথম পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে প্রণোদনা নেন জেলা বিএনপির এই আহ্বায়ক।


সংসদ সদস্য হয়েও সরকারি এই সাড়ে ১২ হাজার টাকা নেওয়ায় আবু সাঈদ চাঁদকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। তবে আবু সাঈদ চাঁদের দাবি, সংসদ সদস্য হিসেবে নয়, আখচাষি হিসেবে তিনি এই অর্থ পেয়েছেন।



জনসভায় ১৫টি চিনিকল এলাকার ৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর কৃষকদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হয়। পরে ১৫টি চিনিকল এলাকার ১৫ আখচাষির হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তাদের মধ্যে প্রথমেই নাম আসে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের।


প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চেক নেওয়ায় সমালোচনার মুখে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে ফেসবুকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি লেখেন, ‘বংশপরম্পরায় আমার বাপ-দাদা থেকে শুরু করে আমি নিজেও দীর্ঘদিন আখচাষ ও আখ সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ব্যক্তিগতভাবে আমি রাজশাহী সুগার মিলে শত শত গাড়ি আখ সরবরাহ করেছি। আগামীতেও করব।’



তবে আবু সাঈদ চাঁদের এই বক্তব্যেও সমালোচনা থামেনি। কৃষি ও কৃষক রক্ষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সংগঠক মাহমুদ জামাল কাদেরীর প্রশ্ন, ‘সংসদ সদস্যকে কেন মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকার সরকারি প্রণোদনা নেওয়ার প্রয়োজন হলো? একজন সংসদ সদস্য তো অসচ্ছল কৃষক নন। তিনি কেন এই সামান্য সরকারি প্রণোদনা গ্রহণ করবেন?’


তিনি বলেন, ‘সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে– শতভাগ আখচাষিকেই প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তবে এটা নিয়ে আমার সংশয় আছে। আমাদের রাজনৈতিক চরিত্র এটাই যে জনপ্রতিনিধি হলে আমরা সবটাই নিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যেখানে নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পরিহার করছেন, সেখানে একজন সংসদ সদস্যকে কেন প্রণোদনার অর্থ নিতে হবে?’



কাদেরী আরও বলেন, ‘সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিতরণে দলীয়করণের চর্চা আগেও ছিল, এখনো রয়েছে। সম্প্রতি সারের ডিলার নিয়োগেও যোগ্যদের বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনার ঘটনা দেখা গেছে।’


সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘যারা এসব কথা বলছেন, তারা বিষয়গুলো জানেন না। সুগার মিল থেকে তদন্ত হয়। যারা আখ চাষ করে, তারা প্রণোদনা পায়। গতবছর আমার ১৮-২০ বিঘা আখ ছিল। এবারও আছে। আমরা বাপ-ব্যাটা মিলে ১৯ হাজার টাকা পেয়েছি। সেটা তো এমপি হিসেবে নয়। একজন আখচাষি হিসেবে পেয়েছি।’


প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রতীকী চেক নেওয়ার জন্য তাঁকেই কেন বেছে নেওয়া হলো– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি নিতে চাইনি। ওরা (সুগার মিল কর্তৃপক্ষ) দিয়েছে। তাই নিতে হয়েছে।’


রাজশাহী সুগার মিলের উপমহাব্যবস্থাপক (কৃষি) তানজিমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতীকী চেক নেওয়ার জন্য আখচাষি নির্বাচনে কোনো ব্যক্তিকে আলাদাভাবে বেছে নেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে কারা প্রণোদনার প্রতীকী চেক নেবেন, তা ঠিক করতে আমরা আমাদের জোনের সব আখচাষির নাম কম্পিউটারে দিয়েছি। কম্পিউটার নামের আদ্যক্ষর দেখে তালিকা করেছে। আবু সাঈদের ‘আ’ আগে থাকায় সংসদ সদস্যের নাম চলে এসেছে। এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়েছে। আমরা কিছু করিনি।’


তিনি বলেন, গত মৌসুমে আবু সাঈদ চাঁদ ২.৫০ শতাংশ জমিতে আখের সঙ্গে সাথি ফসলের চাষ করেছেন। এই হিসাবে তিনি সাড়ে ১২ হাজার টাকা প্রণোদনা পেয়েছেন। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আখচাষ শুরু করার লক্ষ্যে এই প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালার আরও কিছু শর্ত রয়েছে।


রাজশাহী সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা আক্তার জাহান বলেন, দেশের ১৫টি চিনিকল এলাকার কোনো আখচাষি প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হননি। আবু সাঈদ চাঁদও আখচাষি হিসেবে এই অর্থ পেয়েছেন। তিনি সংসদ সদস্য কিনা, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।