রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় প্রচলিত কৃষি ফসলের পাশাপাশি লাভজনক ও বিকল্প ফসল চাষের সম্ভাবনায় নতুন উদ্যোগের পথ তৈরি করছে। কম খরচে অধিক লাভ, জমির সঠিক ব্যবহার এবং বাজারে চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প ফসল চাষ করে তরুন উদ্যোক্তাদের জন্য কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কৃষি প্রধান চারঘাট উপজেলায় অনেকদিন ধরে ধান, আখ,আমসহ প্রচলিত ফসল চাষের উপর নির্ভরশীল। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি, সার ও বীজের দাম এবং বাজারে ফসরের দামের উঠানামার কারনে অনেক সময় প্রত্যাশিত লাভ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে জমির ধরন, আবওহাওয়া, পানির প্রাপ্যতা ও বাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিকল্প ফসল চাষের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের তথ্য মতে, প্রচলিত ফসলের গন্ডি পেরিয়ে প্রায় ২শত ৫০ হেক্টর জমিতে মাল্টা, স্ট্রবেরি, আঙ্গুর, কমলা, বারমাস আম, মিস্টি আমড়া, তুলা, উচ্চমুল্যের সবজি ও পলিনেট পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন হচ্ছে। এতে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এসব উদ্যোগ একদিকে যেমন কৃষকের আয়ের সুযোগ বাড়ছে তেমনি নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও গ্রামে কর্মসংস্থানের পথ প্রসারিত হচ্ছে।
চারঘাট উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের হানিফ মন্ডল একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরন। উচ্চ শিক্ষা শেষে চাকুরির পেছনে না ঘুরে তিনি ২০১৯ সালে প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে মাল্টাসহ অন্যান্য ফলের বাগান তৈরি করার উদ্যেগ নেন। তার প্রতিষ্ঠিত হানিফ এগ্রোফার্ম ও নার্সারিতে মাল্টার পাশাপাশি কমলা, আঙ্গুর, আতা, আনার, আমসহ বিভিন্ন ফলের চাষ হচ্ছে। বাগানের ফল বিক্রির পাশাপাশি গাছের চারা বিক্রিও তার আয়ের একটি উৎস্য। তার সাফল্য দেখে অন্য তরুনরাও ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
শুধু মাল্টা নয়, চারঘাটে আনার চাষ ও সম্ভাবনা হয়ে উঠেছে। উপজেলার হলিদাগাছি গ্রামের তরুন উদ্যোক্তা শিবলী সাদেক ২০২২ সালে বানিজ্যিকভাবে শুরু করেন আনার চাষ। প্রায় দুই বিঘা জমিতে ৩০০টি আনার গাছ এর মধ্যে প্রায় ২০০টি গাছ থেকে তিনি নিয়মিত ফল পাচ্ছেন। ভালো ফলনের ভিত্তিতে তিনি প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ফল বিক্রি করেন বলে তিনি জানান।
এদিকে তুলা চাষও চারঘাটের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ন জায়গা করে নিচ্ছে। তুলা উন্নয়ন বোর্ড, চারঘাট উপজেলার তথ্য অনুযায়ী উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। কৃষকদের কাছে তুলা অর্থকরী ফসল হিসেবে গুরুত্ব পাওয়ায় নতুন চাষীরাও এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের পরামর্শ ও উন্নয়ন সহায়তা এক্ষেত্রে কৃষকদের উৎসাহ যোগাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, কৃষিকে লাভজনক করতে সঠিক ফসল নির্বাচন, উৎপাদন খরচ ব্যবস্থাপনা ও বাজার সমন্ধে ধারনা থাকা জরুরী। উপজেলা আবওহাওয়া ও মাটি এসকল বিকল্প ফসল চাষের উপযোগী। বিকল্প ফসল চাষ সম্প্রসারন করা গেলে উপজেলার কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।