ডিএনএন ডেস্ক: অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং ও সাইবার হয়রানি মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করেছে সরকার। পাশাপাশি, সাইবার অপরাধের মামলা তদন্তে দক্ষ জনবল তৈরিতে দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে হয়রানি, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, অনলাইন ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা এবং ভুয়া লিংকের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এসব অপরাধে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভুক্তভোগীরা মানসিক চাপ ও সামাজিক বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ বাসসকে বলেন, সাইবার জালিয়াতি, হ্যাকিং ও অনলাইন হয়রানির মামলাগুলো পেশাদারত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে নজরদারি ও টহলও চলছে।
সিআইডির তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাইবার অপরাধ-সংক্রান্ত ১৯১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে জিআর মামলা ৩২টি এবং সিআর মামলা ১৫৯টি। এ ছাড়া এক বছরে সাইবার অপরাধের অভিযোগে ১০১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাইবার অপরাধ তদন্তে কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলের প্রশিক্ষণে নতুন মডিউল যুক্ত করা হচ্ছে। পুলিশ সদরদপ্তরের উদ্যোগে চালু হয়েছে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বা ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কার্যক্রম। সম্প্রতি ১০ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং সাইবার ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ অক্টোবর ঢাকায় ৪ হাজার ৫৯২ জন সদস্য ও কর্মী নিয়ে স্বতন্ত্র সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। ইউনিটটির নেতৃত্বে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, ভুয়া ফোনকল, ওটিপি ভাগাভাগি, ডিপফেক ভিডিও, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে অনেকেই সঞ্চয় হারাচ্ছেন। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি জনসচেতনতাও জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা, অচেনা ব্যক্তিকে পিন বা ওটিপি দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।