ডিএনএন ডেস্ক: বাসে গভীর ঘুমে ছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড এক ঝাঁকুনি আর বিকট শব্দে ঘুম ভাঙল। চোখ মেলে তাকাতেই দেখি—আস্ত একটা ট্রেন আমাদের বাসটিকে মুখে করে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে! কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশটা দুমড়েমুচড়ে গেল। এরপর আর কিছু মনে নেই, এভাবেই বললেন কুমিল্লায় বাস-ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় আহত যাত্রী ওমর ফারুক।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন-বাস দুর্ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী তিনি। ঈদের আনন্দ যখন সারা দেশে তুঙ্গে, ঠিক তখনই নোয়াখালীগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের বাসটি ঢাকা মেইল ট্রেনের নিচে পড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন জানান, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুটি শিশু রয়েছে।
জানা যায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া বাসের ভেতর থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষের পর বাসটিকে রেললাইনের ওপর দিয়ে অনেকটা পথ টেনে নিয়ে যায় দ্রুতগামী ট্রেনটি।
আহত ওমর ফারুক আরও বলেন, ‘চোখ খুলে দেখি আমি হাসপাতালে। আমাকে কারা এখানে এনেছে, কখন এনেছে—আমি কিছুই জানি না।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অজয় ভৌমিক জানান, ভোর ৪টার দিকে যখন হতাহতদের হাসপাতালে আনা হয়, তখন ১২ জনই মৃত ছিলেন। অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে।
এদিকে, বাস-ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।