ডিএনএন ডেস্ক: ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ আকার ধারন করছে নিয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) রাতে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় দিমোনা এবং আরাদ শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২৭ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আরাদ শহরে অন্তত ৮৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। শহরের কেন্দ্রস্থলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, দিমোনা শহরে ৩৯ জন আহত হয়েছেন। সেখানে একটি তিনতলা আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং বেশ কয়েকটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে।
প্যারামেডিকরা জানিয়েছেন, স্প্লিন্টারের আঘাতে ১০ বছর বয়সী এক শিশু দিমোনাতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই হামলাকে তেহরানের 'প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা' হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, শনিবার সকালে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে যে হামলা চালানো হয়েছিল, এটি তারই পাল্টা জবাব।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শত শত কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহনকারী দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি দিমোনা ও আরাদে আঘাত হানে। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খুব একটা 'অপরিচিত' ছিল না, তবুও কেন ইন্টারসেপ্টরগুলো সেগুলোকে ধ্বংস করতে পারল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লেও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত শিমোন পেরেজ নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টারের কোনো সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এক বিবৃতিতে সর্বোচ্চ সামরিক সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশেপাশে যে কোনো ধরনের সামরিক তৎপরতা বৈশ্বিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে ইসরায়েলের জন্য একটি "কঠিন সন্ধ্যা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানে এ পর্যন্ত ১,৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০০-র বেশি শিশু রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যম।
সূত্র : আলজাজিরা