ডিএনএন ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার পরদিনও রাজধানী ছাড়ছে হাজারো মানুষ। রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন জনপদ মোড়, ধোলাইপাড় ও উত্তর সায়দাবাদ এলাকায় ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।তবে যাত্রীদের তুলনায় বাসের সংখ্যা অনেক কম হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এই সুযোগে বিভিন্ন রুটের বাস অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বরিশাল, সাতক্ষীরা ও বরগুনাসহ দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি। তবে এসব রুটের নিয়মিত বাসের তীব্র সংকট থাকায় যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাউন্টারগুলোতে অপেক্ষা করছেন।
জানা যায়, যারা ঈদকেন্দ্রিক বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং যারা স্থায়ীভাবে ঢাকার বাসিন্দা হয়েও উৎসবের পর গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন, মূলত তারাই আজ ঢাকা ছাড়ছেন।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের এক যাত্রী জানান, তিনি গাজীপুর থেকে সায়দাবাদ এসেছেন গ্রামে যাওয়ার জন্য। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো সরাসরি বাস পাচ্ছেন না।
তিনি আরও জানান, সবগুলো কাউন্টার থেকে বলছে গাড়ি নেই, যেগুলো আছে সেগুলো খুলনায় যাচ্ছে। এখন ধোলাইপাড় গিয়ে দেখবো কোনো উপায় হয় কি না।
একই অভিজ্ঞতা বরগুনার এক যাত্রীরও তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি, আজ নিজে যাওয়ার পথে বাসের সংকটে পড়েছেন।
যাত্রী সংকটের এই সুযোগে পরিবহন শ্রমিকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের উৎসবে মেতেছেন। বরিশালগামী এক যাত্রী জানান, নন-এসি বাসে বরিশালের নিয়মিত ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও আজ সাধারণ বাসগুলোও ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দাবি করছে।
এদিকে দেখা যায়, যাত্রী সংকটের কারণে অন্য রুটের বাসগুলো এখন বরিশাল ও দক্ষিণবঙ্গের যাত্রী তুলছে। সিলেট রুটে চলাচলকারী মিতালী পরিবহন এবং চট্টগ্রাম রুটের কিছু লোকাল বাসকে এদিন সায়দাবাদে বরিশালের যাত্রী ডাকতে দেখা গেছে।
মিতালী পরিবহনের এক কর্মী জানান, সিলেটে বর্তমানে যাত্রী কম কিন্তু বাস বেশি, তাই তারা বাড়তি আয়ের আশায় বরিশালের ট্রিপ মারছেন।
এ বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামীকাল সোমবার (২৩ মার্চ) থেকে বেসরকারি অফিসগুলো খুলতে শুরু করবে। যারা ঈদে আগে বাড়ি গিয়েছিলেন, তাদের ঢাকা ফিরিয়ে আনতে অধিকাংশ বাস এখন ঢাকার বাইরে অবস্থান করছে।
ফলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার মতো বাসের সংখ্যা হঠাৎ কমে গেছে। অন্যদিকে আজ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি যাত্রী টার্মিনালে আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।