১০ চৈত্র, ১৪৩২
২৪ মার্চ, ২০২৬

যেভাবে ১৫ কেজি ওজন কমালেন অভিনেত্রী

Admin Published: January 26, 2024, 6:47 pm
যেভাবে ১৫ কেজি ওজন কমালেন অভিনেত্রী

মডেল-অভিনেত্রী আফিয়া তাবাসসুম বর্ণ ছোটবেলা থেকেই বেশ স্বাস্থ্য সচেতন ও ফিট ছিলেন। এ জন্য অবশ্য তার মা-বাবার কৃতিত্ব রয়েছে। তারা সবসময় পুষ্টিকর খাবার তৈরি করতেন মেয়ের জন্য। আর ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। যে কারণে ওজনও ঠিকঠাক ছিল বলে জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি মানুষ ফিট থাকতে চান। কিন্তু বিভিন্ন কারণে নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টার যে ত্রুটি থাকে না, বিষয়টি এমনও নয়। প্রায় কম-বেশি সবাই সেই চেষ্টা করেন। এ জন্য অনেকে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তনও আনেন। তবে কিছু চেষ্টা করলেই যে নিজেকে ফিট রাখা যায়, তা প্রমাণ করলেন অভিনেত্রী বর্ণ।


সম্প্রতি দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর হোস্টেল জীবনের পাঁচ বছর ছিল নিয়মহীন। সময়মত খাওয়া-দাওয়া না হওয়া, প্রায় সময়ই বাইরের অস্বাস্থ্যকর ফাস্ট ফুড খাওয়াসহ নানা কারণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় ওজন। ওই সময় অবশ্য কয়েকটি টেলিভশন বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত ওজনের কারণে মডেলিংয়ে কাজ করা হচ্ছিল না। তখন ওজন ছিল ৬৩ কেজি। উচ্চতা ও ক্যারিয়ারের সঙ্গে কোনোটিই ঠিক যাচ্ছিল না।

বর্ণ বলেন, ওই সময় হঠাৎ করেই ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে না পারলেও করোনার সময় নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করি। তখন লক্ষ্য ছিল বাহ্যিক সৌন্দর্য্যের থেকে সুস্বাস্থ্য অর্জন করা। ৮ মাসের চেষ্টায় প্রথম পর্যায়ে ১০ কেজি ওজন কমে। পরের বছর আরও পাঁচ কেজি কমে। ওই সময় ওজন ৪৮ কেজি হয় বলেও জানান তিনি। আর কীভাবে এই ওজন কমিয়েছেন―সেটি অবশ্য জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী।


সময়মত বাসার খাবার খেয়েই এক মাসে পাঁচ কেজি ওজন কমেছিল এ মডেলের। বর্ণ জানান, খাবারের পরিমাণের ওপর তখন নজর দেননি তিনি। তবে সময়মত খাওয়া-দাওয়া করতেন। সকালের খাবার ১০টার আগে, দুপুরের খাবার বেলা ২টার মধ্যে ও রাতের খাবার ৮টার আগে খাওয়া শুরু করতেন। সব খাবারই ছিল বাসার। এতে এক মাসেই পরিবর্তন খেয়াল করেন তিনি।

খাবার কম খেয়ে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে শরীরের পেশি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া। এতে পেট বা মাংসপেশি না কমলেও ঊরু বা কোমর অতিরিক্ত শুকিয়ে যায়। কখনো উল্টোও হয়। বর্ণ জানান, পেশির ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিন আধঘণ্টা সাইক্লিং করেছেন। আর সবার আগে চিনি খাওয়া একদমই বাদ দিতে হবে। এটি কষ্টের হলেও সত্য যে, এর কোনো ভালো দিক নেই বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী বর্ণ।


ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রতিদিন সকালে স্মুদি খেতেন বর্ণ। হাতের কাছে থাকা ফলমূলের সঙ্গে আদাকুচি মিশিয়ে ব্লেন্ড করে কোনো পানি-চিনি ছাড়াই স্মুদি তৈরি করতেন। গাজর, কমলা ও আপেল দিয়ে এই স্মুদি তৈরি করতেন তিনি। মাজে মাঝে সঙ্গে বিটরুট, আপেল, গাজর ও মধু দিয়েও তৈরি করতেন।

এছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে মুখের মেদ কমানোও জরুরি। এ জন্য প্রয়োজন নিশ্বাসের ব্যায়াম। নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়তে হয়। এ ধরনের কিছু শ্বাসের ব্যায়াম ও মুখের যোগব্যায়ামের মাধ্যমে মুখের মেদ কমানো যায়। আর পাশাপাশি পুষ্টিবিদের পরামর্শ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ীও জীবন পরিচালনা করেছেন অভিনেত্রী বর্ণ।